Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহিলাদের টেনিসে ‘লিঙ্গ পরীক্ষা’ বা জেনেটিক টেস্ট (Genetic test Tennis) চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে বিশ্ব ক্রীড়া ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। উইমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের এই বাধ্যতামূলক নিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে ‘স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স’। তাদের দাবি, এই ধরনের নীতি বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে মহিলা খেলোয়াড়দের সামাজিক হেনস্তা ও মানসিক কষ্টের মুখে পড়তে হতে পারে।
নতুন নিয়মের রূপরেখা (Genetic test Tennis)
গত মাসেই ডব্লিউটিএ মহিলাদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে একবার জেনেটিক পরীক্ষা করাতে হবে। রক্ত পরীক্ষা কিংবা গালের ভিতর থেকে কোষের নমুনা সংগ্রহ করে এই টেস্ট করা হচ্ছে। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরে এসআরওয়াই জিন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। পূর্বে ট্রান্সজেন্ডার মহিলা খেলোয়াড়েরা নিজেদের মহিলা হিসেবে ঘোষণা করে এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রেখে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু সেই নিয়ম বাতিল করে এবার জেনেটিক পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্সের আপত্তি (Genetic test Tennis)
ডব্লিউটিএ-র এই নতুন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংগঠন ‘স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স’। সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া ফ্লোরেন্স মনে করেন, ডব্লিউটিএ হয়তো ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই এই পদক্ষেপ করেছে, কিন্তু এর নেতিবাচক দিকগুলো উপেক্ষা করা যায় না। তাঁর মতে, এই ধরনের লিঙ্গ পরীক্ষা মহিলা ও কিশোরী খেলোয়াড়দের মনে গভীর লজ্জা এবং মানসিক কষ্টের জন্ম দিতে পারে। শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার আশ্বাস দিলেই খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছে এই জোট।
শীর্ষ তারকাদের ভিন্ন মতামত (Genetic test Tennis)
এই বিতর্কিত নিয়ম নিয়ে মহিলা টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। বিশ্বের শীর্ষ টেনিস তারকা আরিনা সাবালেঙ্কা ডব্লিউটিএ-র এই সিদ্ধান্তকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। কানাডিয়ান ওপেনে খেলতে গিয়ে তিনি জানান, টেনিসে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ফেয়ার প্লে থাকা অত্যন্ত জরুরি। পুরুষদের শারীরিক শক্তি সাধারণত মহিলাদের তুলনায় বেশি হওয়ায় পুরুষদের সঙ্গে মহিলাদের প্রতিযোগিতা করা অনুচিত বলে মনে করেন তিনি। সবার জন্যই এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করায় তাঁর কোনও আপত্তি নেই। অন্যদিকে, মার্কিন তারকা কোকো গফ সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, এই ধরনের নিয়মের ফলে সমাজে ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ও বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: EB MB Durand Cup: কবে মাঠে নামবে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান?
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে বিতর্ক (Genetic test Tennis)
গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিও মহিলাদের খেলায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে একবার লিঙ্গ পরীক্ষা (Genetic test Tennis) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারপর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খেলায় এই ধরনের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ডব্লিউটিএ যদিও বারবার দাবি করেছে যে খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হবে, তবুও ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত অধিকার ও সুরক্ষার প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করে বোর্ডের উপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।



