Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
অভ্রদ্বীপ দাস, কলকাতা: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ। গ্রেফতার বাংলারই তিন বাসিন্দা। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রকাশ্যে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য।
সীমান্তে আন্তর্জাতিক চক্রের রহস্যভেদ (ISI)
আইএসআই-এর হয়ে ভারতীয় তথ্য ও নথিপত্র পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতদের মধ্যে দু’জন কোচবিহারের (CoochBehar) এবং একজন উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সীমান্তপথে বাংলাদেশে গরুপাচার ও জাল নোট কারবারের আড়ালে ভারতীয় সিমকার্ড এবং একাধিক গোপনীয় তথ্য সীমান্ত পার করে পৌঁছে দেওয়া হত পাকিস্তানে।
আরও পড়ুন:Fire Case: গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই কোটি টাকার সম্পত্তি!
গ্রেফতার হওয়া প্রথম ব্যক্তি উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, যাকে বিহারের কিষাণগঞ্জ থেকে ধরা হয়। শফিকুলের মোবাইল থেকে বাংলাদেশের একাধিক গোপন কনট্যাক্ট নম্বরের পাশাপাশি মিলল জাল নোটের নানা ছবি (ISI)। এমনকি প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হলেও তাঁর আসল পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না তাঁর নিজের পরিবারও। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধৃত কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা নুর নাসিরুদ্দিন আলি ২০১৮ সালে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। তিনি গরু পাচার ও সিমকার্ড স্থানান্তরের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা গেছে। তৃতীয় ধৃত কোচবিহারের সাহেবগঞ্জের রশিদুল হক জেরায় স্বীকার করেছেন যে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার জাল নোট পাচার (Fake Currency Racket) করেছেন।
সম্রাটের পাক-যোগ
তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের মূল মাষ্টারমাইন্ড ছিল বাংলাদেশে থাকা আকবর ওরফে ‘সম্রাট’ নামে এক মধ্যস্থতাকারী। ভারতীয় সিমকার্ড ও স্পর্শকাতর সরকারি কিংবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য প্রথমে পৌঁছত এই আকবরের কাছে, যা পরে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হতো পাকিস্তানের আইএসআই (ISI) হ্যান্ডলারদের হাতে।
আরও পড়ুন:Ayushman Bharat: ১৬ আগস্ট থেকেই মিলবে নতুন স্বাস্থ্যসুরক্ষা
ধৃতদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা ও নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে (ISI)। দিনহাটা মহকুমা আদালত তিনজনকেই ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই চক্রান্তের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তা বের করতে মরিয়া তদন্তকারীরা।


