Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর শহরের হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠেছে (Kolkata Fire)। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে দমকল দফতর। প্রাথমিকভাবে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তোরাঁকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অগ্নি নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ (Kolkata Fire)
দমকল সূত্রে খবর, ওই প্রতিষ্ঠানগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ফায়ার সেফটি পরিকাঠামোয় একাধিক ত্রুটি নজরে এসেছে। কোথাও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবস্থা নেই, কোথাও আবার নিরাপত্তা বিধি মেনে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়নি—এমন অভিযোগই সামনে এসেছে। দমকলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে, না হলে প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
আগেও কি দেওয়া হয়েছিল সতর্কবার্তা? (Kolkata Fire)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দমকল সূত্রে খবর। নিয়ম মেনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার জন্য একাধিকবার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে মানা হয়েছিল, তা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠছে।

বারবার সতর্ক করার পরও যদি কোনও প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা বিধি না মেনে ব্যবসা চালিয়ে যায়, তাহলে মানুষের জীবন নিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনার পর সেই ঝুঁকির বিষয়টিই নতুন করে সামনে এসেছে।
৯ প্রাণহানির পর প্রশ্নের মুখে শহরের নিরাপত্তা (Kolkata Fire)
হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকার হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলির সামগ্রিক অগ্নি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটই অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, অ্যালার্ম, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং নিয়মিত মহড়া না থাকলে ছোট আগুনও ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন: KMC Ward: ১৪৪ থেকে ২০৯! বদলাচ্ছে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের মানচিত্র, শীঘ্রই প্রকাশিত হবে নয়া খসড়া
নিয়ম ভাঙলে আরও কড়া পদক্ষেপ?
মির্জা গালিব স্ট্রিটের ঘটনার পর দমকলের এই পদক্ষেপকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শো-কজের জবাব খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে বন্ধ করে দেওয়া-সহ আরও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হতে পারে।



