Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ববাজারে কাঁচা চিনির দাম টন প্রতি ৪৭৪ ডলার থেকে বেড়ে ৫৫২ ডলার ছাড়িয়েছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভারতের ‘ই২০‘ (E20) ইথানল মিশ্রণ নীতির অবদান নিয়ে বড় আলোচনা শুরু হয়েছে(Sugar Price Hike)।
ইথানল নীতি ও স্টক সংকট (Sugar Price Hike)
ই২০ টার্গেট: সময়সীমা এগিয়ে এনে ২০২৫-২৬ সরবরাহ বছরেই পেট্রোলে ২০% ইথানল মেশানো বাধ্যতামূলক করা হয়।
রস থেকে জ্বালানি: ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন চিনি সমমানের আখ সরাসরি ইথানল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা দেশের মোট সম্ভাব্য চিনি উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ।
বাফার স্টকে টান: অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পুরনো রফতানি প্রতিশ্রুতি মেটানোর পর বাফার স্টক কমে দাঁড়ায় ৩.৫-৪.০ লাখ টনে, যা উৎসবের মৌসুমের ন্যূনতম সীমা (৬.০ লাখ টন) থেকে অনেক কম। ইথানলে এই আখ ব্যবহার না হলে ভারতের উদ্বৃত্ত মজুত দিয়ে সহজেই ফসলের ক্ষতি সামলানো যেত।
নীতি বনাম খাদ্য সুরক্ষা
ইথানল নীতির কারণে জ্বালানি আমদানি খরচ কমছে এবং কৃষকরা দ্রুত বকেয়া টাকা পাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফসলের ক্ষতির মধ্যে বিশাল পরিমাণ চিনি ডাইভার্ট করায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে সরকার এখন ভুট্টা ও নষ্ট খাদ্যশস্য থেকে ইথানল তৈরিতে জোর দিচ্ছে।
উৎপাদক থেকে আমদানিকারক (Sugar Price Hike)
২০২১-২২ সালে ১১০ লাখ টন চিনি রফতানি করে বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত, খরা ও রোগের কারণে উৎপাদন কমায় ২০২৬ সালের মে মাসে চিনি রফতানি নিষিদ্ধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সরকার শূন্য শুল্কে ১০ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি (TRQ) দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Indian Navy Captain Arrest: ব্রিটেন-রুশ তেল নিষেধাজ্ঞা: বলির পাঁঠা ভারতীয় ক্যাপ্টেন?
কীভাবে বাজারে আসবে এই চিনি? (Sugar Price Hike)
ডিজিএফটি (DGFT) নির্দেশনা অনুযায়ী, কেবল সচল রিফাইনারি থাকা মিলগুলোই এই আমদানির সুযোগ পাবে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আসা এই কাঁচা চিনি প্রক্রিয়াজাত করে ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে খুচরা বাজারে বিক্রি করতে হবে। ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত চিনির দর দেশের ভিতরের চড়া এক্স-মিল দামের চেয়ে কম হওয়ায়, এই পদক্ষেপ উৎসবের মুখে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।



