Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চন্দন বারিক, পূর্ব মেদিনীপুর: ৩৫ বছরের বাম শাসন, এরপর (Ramnagar Flood) প্রায় ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের শাসন-সরকার বদলেছে, কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর বিধানসভার বাঁধিয়া এলাকার মানুষের জলযন্ত্রণা যেন কাটেনি। প্রতি বছরই সুবর্ণরেখার জলে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জলের তলায় বিস্তীর্ণ এলাকা, জলবন্দি কয়েক হাজার মানুষ। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুবর্ণরেখার জলে প্লাবিত গ্রাম (Ramnagar Flood)
উত্তর বাঁধিয়া, দক্ষিণ বাঁধিয়া, কচুড়া, সাহারা-সহ রামনগর থানার (Ramnagar Flood) বেশ কয়েকটি গ্রাম সুবর্ণরেখার জলে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও আবার ১৫ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত জল দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বহু রাস্তা। যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। বন্ধ রয়েছে স্কুলও।
ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা (Ramnagar Flood)
জলবন্দি পরিস্থিতিতে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে (Ramnagar Flood) ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার ঘরের মায়া কাটাতে না পেরে অনেকে জলবন্দি বাড়িতেই রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, বহু কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদি পশু নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। কেউ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ নিজের ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় বাড়িতেই থেকে গিয়েছেন।
চাই স্থায়ী সমাধান (Ramnagar Flood)
সরকারি ত্রাণ শিবিরগুলিতে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মিললেও স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, ত্রাণ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁদের মূল দাবি-সুবর্ণরেখার জল থেকে বারবার প্লাবিত হওয়া রুখতে অবিলম্বে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি নিচু রাস্তাগুলিকে উঁচু করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এদিন এলাকায় (Ramnagar Flood) যান সেচমন্ত্রী অরূপ দাস, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক, সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার-সহ প্রশাসন ও শাসক দলের প্রতিনিধিরা। স্পিডবোটে করে বেশ কিছুক্ষণ তাঁরা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষের হাতে জল, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিচু রাস্তাগুলি উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি এলাকার মানুষ মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলে রাস্তা উঁচু করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
উঠছে প্রশ্ন
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে স্থানীয়দের প্রশ্ন-আর কতদিন এভাবে প্রতিবছর বন্যার জল আর জলযন্ত্রণা সহ্য করতে হবে? তাঁদের বক্তব্য, অতীতে বন্যার সময়ও ত্রাণ পৌঁছেছে, পরবর্তী সরকারগুলিও ত্রাণ দিয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Annapurna Protest: প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ সরকার! ঢোকেনি অন্নপূর্ণার টাকা, বিক্ষোভ মহিলাদের
তাই এবার ত্রাণের পাশাপাশি তাঁরা চাইছেন স্থায়ী সমাধান। তাঁদের একটাই দাবি-সুবর্ণরেখার বন্যা থেকে মুক্তি দিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং নিচু রাস্তাগুলি উঁচু করার ব্যবস্থা করা হোক। সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের পরিদর্শনকে ঘিরে কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। এখন তাঁদের অপেক্ষা-আশ্বাস কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, আর কবে শেষ হয় বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই জলযন্ত্রণা।


