Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্ময়কর অগ্রগতি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করছে, তেমনই তৈরি করছে নতুন কিছু উদ্বেগ (AI Book)। তার মধ্যে অন্যতম হল বই ও জ্ঞান সংরক্ষণের প্রশ্ন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় AI সংস্থাগুলি Large Language Model বা LLM প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল সংখ্যক ছাপা বই সংগ্রহ করছে। বইগুলি স্ক্যান করে ডিজিটাল তথ্য হিসেবে ব্যবহারের পর কিছু ক্ষেত্রে সেগুলি কেটে ধ্বংস করে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
বিরল বই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা (AI Book)
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দুর্লভ বই নিয়ে। এমন বহু বই রয়েছে, যেগুলির হাতে গোনা কয়েকটি মুদ্রিত কপি এখনও লাইব্রেরি, সংগ্রাহক কিংবা পুরনো বইয়ের বাজারে টিকে আছে। সেগুলিও যদি স্ক্যান করার পর নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই বইগুলির শারীরিক অস্তিত্বই হারিয়ে যেতে পারে। একটি AI মডেলের কাছে তথ্য সংরক্ষিত থাকলেও, সেটি আর বইটির বিকল্প হয়ে উঠবে না।
কপিরাইট নিয়েও বিতর্ক (AI Book)
এর পাশাপাশি রয়েছে লেখকদের কপিরাইটের প্রশ্ন। তাঁদের অনুমতি বা যথাযথ পারিশ্রমিক ছাড়াই লেখা AI প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে লেখকের মেধাস্বত্ব রক্ষার প্রশ্নটিও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
AI-নির্ভর ভবিষ্যৎ কি জ্ঞানশূন্য হবে? (AI Book)
আরও একটি গভীর সমস্যা হল ‘মডেল কোলাপ্স’-এর আশঙ্কা। ভবিষ্যতে যদি নতুন বই ও অনলাইন কনটেন্টের বড় অংশই AI দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে AI আবার সেই AI-নির্মিত তথ্য থেকেই শিখতে থাকবে। এতে মৌলিক মানবসৃষ্ট জ্ঞান ও সৃজনশীলতার বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন: Taki Tourism Pollution: টাকির পর্যটনখ্যাতিতে কালো দাগ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ
প্রযুক্তির পাশাপাশি সংরক্ষণও জরুরি
AI-র সুবিধা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির নামে বই, লেখক, ইতিহাস এবং মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ একটি বই শুধু কিছু তথ্যের সমষ্টি নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি সময়, একটি সমাজ এবং মানুষের চিন্তার ইতিহাস। সেই বই একবার হারিয়ে গেলে প্রযুক্তি হয়তো তার তথ্য মনে রাখতে পারবে, কিন্তু তার অস্তিত্বকে আর ফিরিয়ে দিতে পারবে না।



