Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৮ অগাস্ট, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। আর এই দিনেই কলকাতার রাজপথে কার্যত শক্তি প্রদর্শনের মুখোমুখি দুই শিবির (TMCP Foundation Day)। একদিকে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল, অন্যদিকে দলের বিদ্রোহী শিবির। ফলে প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।
বিধায়ক ও নেতার (TMCP Foundation Day)
ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মূল সভায় থাকবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। অন্যদিকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে পাল্টা সভা করবে বিদ্রোহী শিবির। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার কথা একাধিক বিধায়ক ও নেতার।
রাজনৈতিক মহল (TMCP Foundation Day)
২১ জুলাইয়ের মতোই এবারও দুই সভার ভিড়, সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থন—সবকিছুই হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মাপকাঠি। বিদ্রোহীদের গুরুত্ব কতটা, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মূল তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি কতটা—আজকের কর্মসূচিতে তারই পরীক্ষা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মমতার বার্তা (TMCP Foundation Day)
তবে শুধু দুই শিবিরের শক্তির লড়াই নয়, বড় প্রশ্ন উঠছে ছাত্রদের ভূমিকা নিয়েও। প্রশ্নফাঁস থেকে শুরু করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি—শিক্ষাঙ্গনের একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। ফলে জেন জি-র ছাত্রছাত্রীদের সামনে রেখে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কী বার্তা দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
সাংসদদের আধিক্য রয়েছে
এরই মধ্যে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি নিয়োগ ঘিরেও নতুন বিতর্ক। রাজ্যের ২৪৭টি সরকারপোষিত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। অভিযোগ, তালিকায় বিজেপির মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদদের আধিক্য রয়েছে।
একই পথে হাঁটছে? (TMCP Foundation Day)
ফলে প্রশ্ন উঠছে—তৃণমূল আমলে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠত, বিজেপি সরকার কি সেই একই পথে হাঁটছে? যদিও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, শিক্ষাঙ্গনকে কোনওভাবেই রাজনীতির বিচরণক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না।
TMCP কি মূল্যবৃদ্ধি (TMCP Foundation Day)
অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়েও ফেসবুক লাইভে কয়েকদিন আগে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের উপর কতটা পড়ছে, সেই প্রশ্নে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র ও যুব সমাজ কি ফের রাস্তায় নামবে? TMCP কি মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলন আরও জোরদার করবে?

আরও পড়ুন: Nepal China: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: চিনের দিকে আঙুল, অভিযোগ উড়িয়ে মুখ খুলল বেইজিং
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
আজকের TMCP প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্রদের সমর্থন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল শিবির, নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবির? আজকের দুই সভার ভিড় শুধু সংখ্যা নয়, তৃণমূলের ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিতে পারে। রাজপথে দুই সভা, আর তার মাঝখানে ছাত্রসমাজ—শেষ পর্যন্ত কার শক্তি কতটা, সেই উত্তরই খুঁজবে আজকের দিন।



