Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘পাখণ্ডী’ শব্দটি আজ আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। সিনেমা, টিভি সিরিয়াল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কথোপকথন—সর্বত্রই শব্দটির ব্যবহার দেখা যায় (Pakhandi Meaning)। তবে আশ্চর্যের বিষয়, শব্দটির প্রাচীন ইতিহাসে আজকের মতো অপমানজনক অর্থ ছিল না। সংস্কৃত ‘পাষণ্ড’ শব্দ থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘পাষণ্ডী’, ‘পাখণ্ডী’ বা ‘পাখন্ডী’ শব্দের প্রচলন। প্রাচীন ভারতে এটি মূলত কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায় বা নির্দিষ্ট মতপন্থাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
অশোকের শিলালিপিতে ‘পাসণ্ড’ (Pakhandi Meaning)
সম্রাট অশোকের শিলালিপিতে ‘পাসণ্ড’ বা Pāsaṁḍa শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে শব্দটি কোনও ব্যক্তিকে ভণ্ড বা প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়নি। বরং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়, মত বা পন্থাকে বোঝাতেই শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। অর্থাৎ, সেই সময় ‘পাষণ্ড’ শব্দের মধ্যে আজকের মতো তীব্র নেতিবাচক অর্থ নিহিত ছিল না।
কীভাবে বদলে গেল অর্থ? (Pakhandi Meaning)
সময়ের সঙ্গে ধর্মীয় মতপার্থক্য এবং সামাজিক-ধর্মীয় বিতর্কের প্রভাব শব্দটির অর্থেও পড়ে। বেদস্বীকৃত মতের বাইরে থাকা বিভিন্ন সম্প্রদায় বা মতকে বোঝাতে ‘পাষণ্ড’ শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে। ধীরে ধীরে ভিন্নমতকে ‘বেদবিরোধী’ বা ‘ধর্মবিরোধী’ হিসেবে দেখার প্রবণতার সঙ্গে শব্দটির মধ্যে নেতিবাচক ভাব যুক্ত হয়।
ধর্মীয় পরিচয় থেকে ভণ্ডামির প্রতীক (Pakhandi Meaning)
পরবর্তী সময়ে ‘পাষণ্ডী’ শব্দের ব্যবহার আরও বদলে যায়। ধর্মের নাম করে প্রতারণা করা, সাধু বা ধর্মীয় ব্যক্তির বেশ ধারণ করে মানুষের সঙ্গে ছলনা করা কিংবা মুখে এক কথা বলে কাজে তার বিপরীত আচরণ করা ব্যক্তিদের বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এখান থেকেই ‘পাখণ্ডী’ অর্থে ভণ্ড, শঠ, ছদ্মবেশী ও প্রতারক—এই অর্থগুলি প্রতিষ্ঠা পায়।

আরও পড়ুন: Avik Sarkar: বাগেশ্বর বাবাকে এবার শাস্ত্রের পাঠ পড়ালেন লেখক অভীক সরকার
আজকের ‘পাখণ্ডী’
বর্তমানে ‘পাখণ্ডী’ শব্দটি মূলত নৈতিক দ্বিচারিতা বোঝায়। অর্থাৎ, কথা ও কাজের মধ্যে যার বিস্তর ফারাক, ধর্ম বা নীতির কথা বলে যে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে, তাকেই সাধারণত পাখণ্ডী বলা হয়। একটি শব্দ কীভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নিজের অর্থ বদলে নিয়েছে, ‘পাখণ্ডী’ তারই একটি আকর্ষণীয় ভাষাতাত্ত্বিক উদাহরণ।



