Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে ভাইস প্রিন্সিপালকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুললেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। তাঁর অভিযোগ, আইন ও নিয়মকে পাশ কাটিয়ে নির্দিষ্ট দাবিকে সামনে রেখে একজন শিক্ষিকাকে প্রায় ২৩ থেকে ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির চাপে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত পরীক্ষায় বসার অনুমতি সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট উপস্থিতির হার না থাকলেও ৪০ শতাংশ উপস্থিতি থাকা পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার দাবি ওঠে। কিন্তু এই দাবি মেনে নেওয়া আইনসঙ্গত কি না, তা নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।
‘আইন মানা হবে না’—এই প্রবণতা কতটা বিপজ্জনক? (Sujan Chakraborty)
সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, কোনও দাবি পূরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইন ও নিয়মকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁর প্রশ্ন, একজন শিক্ষিকাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে বা মানসিক চাপ তৈরি করে দাবি আদায় করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনে তার কী প্রভাব পড়বে? তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কোনও ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রয়োজন নেই। তাঁর কাছে মূল প্রশ্ন হল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইন, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মর্যাদা বজায় থাকছে কি না।
‘বিজয়োল্লাস’ নিয়েও প্রশ্ন (Sujan Chakraborty)
ঘটনার পর কলেজ চত্বরে রাজনৈতিক পতাকা ওড়ানো, গঙ্গাজল দিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণ ‘শুদ্ধিকরণ’ এবং স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনাকেও তীব্র সমালোচনা করেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষাঙ্গনের সমস্যাকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনা, গবেষণা ও সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা। সেখানে যদি রাজনৈতিক পরিচয় এবং শক্তি প্রদর্শনই মুখ্য হয়ে ওঠে, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

যাদবপুর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা (Sujan Chakraborty)
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি সতর্ক করেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেও যেভাবে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করা হচ্ছে, তার প্রভাব গোটা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের অপমান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে আসার ঘটনা যদি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে নিচুতলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও তার প্রতিফলন ঘটবে।
‘শিক্ষাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ ভয়ংকর হয়ে যাচ্ছে’ (Sujan Chakraborty)
সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্যে উঠে আসে আরও বড় আশঙ্কা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।
আরও পড়ুন: Nabanna: মানা হচ্ছে না অগ্নি সুরক্ষা বিধি, কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ নবান্নের
তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও মানসিক পরিবেশ। শেষে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সুজন চক্রবর্তীর আবেদন, বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইন, শৃঙ্খলা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মর্যাদা এবং পড়াশোনার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। কারণ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়বে আগামী প্রজন্মের উপরই।



