Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার সকালে বার্ণপুরের ভারতী ভবনে রাঢ় বাংলা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে একাধিক বিষয়ে সরব হলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সাহিত্য-সংস্কৃতির মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা (Agnimitra Paul)।
মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কড়া অবস্থান (Agnimitra Paul)
মন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে যে সমস্ত মাদ্রাসায় ভারত-বিরোধী পাঠ পড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানগুলিকে বন্ধ করে পড়ুয়াদের পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দফতরের অধীন স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা নির্বাচনের সময় রাজ্যে এসে আশ্রয় নেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভয়া-কাণ্ড থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা (Agnimitra Paul)
স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অগ্নিমিত্র পাল। তাঁর দাবি, চিকিৎসা ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয় প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কার কারণেই অভয়াকে খুন হতে হয়েছে। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অবৈধ ওষুধ ব্যবসার অভিযোগও তোলেন তিনি। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তুলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানোর অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বহু মানুষ শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
নন্দীগ্রাম-রেজিনগামে মানুষের চাহিদাই আসল (Agnimitra Paul)
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিএম একজোট হলেও সাধারণ মানুষের মূল চাহিদা রাজনৈতিক সমীকরণ নয়। উন্নত রাস্তা, ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আবাসনের মতো মৌলিক প্রয়োজনই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকারের আবাস যোজনার মাধ্যমে মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিল্প ফেরানোর বার্তা (Agnimitra Paul)
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদী বার্তা দেন অগ্নিমিত্র পাল। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে একাধিক বড় শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলি ফের চালু করার পাশাপাশি নতুন শিল্প, হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য কর্মসংস্থানমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: Jeetu Kamal: বিতর্কের মাঝেই ‘বিগ বস’-এ জীতু কমল!
শিক্ষিত বেকারদের ভিনরাজ্যে যাওয়া ঠেকানোর লক্ষ্য
অগ্নিমিত্র পালের বক্তব্যে উঠে আসে কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। তাঁর মতে, রাজ্যে পর্যাপ্ত শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা না গেলে শিক্ষিত যুবকদের কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে। তাই শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়ে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। সাহিত্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তাঁর এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বক্তব্য ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



