Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুর (High Court) কোর্ট ময়দানে শর্তসাপেক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে আদালত বেশকিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে। বিকাল ৪টে থেকে সন্ধে ৬টার মধ্যে সভা করতে হবে। সর্বাধিক এক হাজার লোক নিয়ে সভা করা যাবে। সভা থেকে কোনও অপ্রীতিকর মন্তব্য করা যাবে। খুব বড় মঞ্চ করা যাবে না। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম এবং মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে। সভা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চ খুলে নিতে হবে।
অনুমতি দিচ্ছিল না পুলিশ (High Court)
গত ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরের মাহেশে বর্তমান বিজেপি (High Court) সরকারের একাধিক জনবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিছিল ও সভা করার কথা ছিল তৃণমূল সুপ্রিম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু সেই সভার অনুমতি পুলিশ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন চুঁচুড়ার পরাজিত তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।
শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি দিয়েছিলেন (High Court)
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য মিছিলের অনুমতি না দিলেও শর্তসাপেক্ষে সভা করার (High Court) অনুমতি দিয়েছিলেন। সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। যে মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা হওয়ার কথা ছিল, সেই জগন্নাথদেব স্নানপিঁড়ি ময়দানের অনুমতির ব্যাখ্যা আদালতের কাছে চেয়েছিল রাজ্য। পাশাপাশি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের একটি অংশ পরিবর্তনের আবেদন প্রধান বিচারপতি বেঞ্চে জানায় রাজ্য। প্রধান বিচারপতির প্রধান রবীন্দ্র ঘুগের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লদল ভট্টাচার্য্য দাবি করেন, সভার অনুমতি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সভার মাঠটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি যদি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে পুলিশের কিছু করণীয় নেই। রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে দাবী করা হয়, সভার ওই মাঠটি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক কারণে মাঠটি ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য কাউকে বলপ্রয়োগ করতে পারে না পুলিশ। রাজ্যের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিষয়টি থেকে পুলিশকে নিষ্কৃতি দেওয়া হোক এবং অন্য জায়গায় সভা করার অনুমতি দেওয়া হোক।
মাহেশের ওই মাঠটির মালিকানা যাদের, তারাও (High Court) আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, মাঠটি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়। মাহেশের বিখ্যাত রথের মেলাও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ওই মাঠ দিতে তারা ইচ্ছুক নন।
এরপরই প্রধান বিচারপতি ঘুগে মামলাকারীদের উদ্দেশ্যে (High Court) বলেন, ‘আপনার উদ্দেশে সাধারণ জনগণকে সমস্যায় ফেলা নয়। কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করার আগে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে। এমন জায়গায় কর্মসূচি করা উচিত যেখানে মানুষের অসুবিধা না হয়। এমন জায়গায় করুন যাতে বার্তা পৌঁছায়, কিন্তু মানুষের অসুবিধা না হয়। আপনারা বিকল্প জায়গা ঠিক করে আদালতকে জানান।’ বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী দিল্লি রোডে এই সভা করলে অসুবিধা কোথায়, তা জানতে চান। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দিল্লি রোড শ্রীরামপুরের বাইরে।
৫০০ জনকে নিয়ে শ্রীরামপুর আদালত ময়দানে সভা করতে চাইলে অনুমতি দেওয়া হবে বলে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তার তীব্র বিরোধিতা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে বার হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মনে হচ্ছে আমাদের যেন দয়া করা হচ্ছে। আদালত ময়দানে এই সভা করা সম্ভব নয়।’ শুনানিতে শ্রীরামপুর থানার আইসি-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটের আগে আমার বাড়িতে মিষ্টি পাঠিয়ে ফেভার নেওয়ার কথা বলেছিলেন এই আইসি। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর এখন বদলে গিয়েছে। আইসি এই কদিনে আমাদের আরও সমর্থককে গ্রেফতার করতে পারে।’ বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এ কথা শোনার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি তো সভার থেকে বেশি আইসি-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাইছেন বলে মনে হচ্ছে। আইসি আরও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। তবে আমরা সেই মামলা দেখছি না। ফলে হস্তক্ষেপ করব না’। এরপরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের ফেরত পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন: Mahira Khan: ৪১ বয়সে মা হচ্ছেন মাহিরা খান, ৪০-এর পর মা হলে কী সাবধানতা মানবেন?
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানিতে, রাজ্যের তরফে বলা হয়, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সভা করতে কোনও সমস্যা নেই। তবে জেড ক্যাটাগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। ৫০০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। মামলাকারী তৃণমূলের আইনজীবী
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের দেওয়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, সঙ্গীত অনুষ্ঠানেও ২০০০ মানুষের জমায়েত হযেছিল। তাই এত কম সংখ্যায় মানুষের জমায়েত করে সভা করা সম্ভব নয়। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা করার অনুমতি দেয় আদালত।


