Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং লোহিতসাগরকে ঘিরে অস্থিরতার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় (Pakistan)। জ্বালানি সাশ্রয়, সরকারি ব্যয় কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসলামাবাদ ঘোষণা করেছে একগুচ্ছ নতুন বিধিনিষেধ। পুরোপুরি লকডাউন না হলেও প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই ‘স্মার্ট লকডাউন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি গাড়ি কেনায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা (Pakistan)
নতুন নির্দেশিকায় সরকারি গাড়ি কেনার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি গাড়ির জন্য বরাদ্দ জ্বালানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। আগামী তিন মাস ফেডারেল কর্মীদের বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে সফরের অনুমতি মিলবে এবং সেক্ষেত্রে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াত করতে হবে।
রাত বাড়ার আগেই বন্ধ বাজার-দোকান (Pakistan)
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে লাগাম টানতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির সময়সীমাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোকান, বাজার, শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং মুদি দোকান রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিয়ের হল, প্যান্ডেল এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থল রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। রেস্তরাঁ, ক্যাফে ও খাবারের দোকানও রাত ১১টার পর খোলা রাখা যাবে না। তবে টেক-অ্যাওয়ে ও হোম ডেলিভারি পরিষেবায় এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।
বিয়ের অনুষ্ঠানেও খরচ কমানোর বার্তা (Pakistan)
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে বিয়ের অনুষ্ঠানেও এসেছে বিশেষ নির্দেশ। অনুষ্ঠানে খাবারের তালিকায় কেবল একটি পদ রাখার নিয়ম করা হয়েছে। অর্থাৎ সামাজিক অনুষ্ঠানেও জ্বালানি ও অর্থ সাশ্রয়ের বার্তা দিতে চাইছে পাকিস্তান প্রশাসন।
জরুরি পরিষেবায় নেই বিধিনিষেধ (Pakistan)
তবে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ল্যাবরেটরি, পেট্রল ও সিএনজি স্টেশন, ইভি চার্জিং স্টেশন, জিম, খেলাধুলার কেন্দ্র, আইটি সংস্থা এবং কল সেন্টার এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়ছে না।
আরও পড়ুন: UPI Transaction Charges: ১৫ অক্টোবর থেকে UPI-তে নতুন নিয়ম, কত টাকা চার্জ জানুন
মার্চের পর ফের একই পথে ইসলামাবাদ
এর আগে চলতি বছরের মার্চেও জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান। সেই সময় স্কুল বন্ধ রাখা, সরকারি কর্মীদের জ্বালানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এবারও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সামলাতে একই পথে হাঁটছে ইসলামাবাদ। নতুন বিধিনিষেধ কতদিন কার্যকর থাকবে এবং এর ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতি ও সাধারণ জীবনে কী প্রভাব পড়বে, এখন সেটাই দেখার।



