Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘমেয়াদী মিউচুয়াল ফান্ড বা SIP-এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মূল বার্তা হলো ধৈর্য ও মানসিক শৃঙ্খলা (SIP Investment)। মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের স্বপ্নপূরণে অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম মিউচুয়াল ফান্ড হলেও, বেশ কিছু ভুল মানসিক অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে ব্যাহত করে। Behavioral Finance বা আচরণগত অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী, ভয়, লোভ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং বাজার দেখে আতঙ্কিত হওয়া দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শত্রু। নিচে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিত সেই নেতিবাচক অভ্যাসগুলি এবং দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়ার উপায় প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
রিটার্ন দেখে ফান্ড পরিবর্তন করা (SIP Investment)
কোনও ফান্ডের গত ১, ২ বা ৩ বছরের সেরা পারফরম্যান্স দেখে তা কেনা, কিংবা স্বল্পমেয়াদে খারাপ পারফরম্যান্স দেখে ফান্ড বিক্রি করে বেরিয়ে যাওয়া একটি মারাত্মক ভুল অভ্যাস। একে বিশেষজ্ঞরা পারফরম্যান্স চেজিং বলেন। একটি ভালো মানের ফান্ডও নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য ভালো পারফর্ম না-ও করতে পারে। বারবার ফান্ড বদলালে কম্পাউন্ডিংয়ের আসল লাভ হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই গত ১-৩ বছরের শর্ট-টার্ম পারফরম্যান্স দেখে নয়, বরং ফান্ডের অন্তত ১০-১৫ বছরের রেকর্ড, ফান্ডের ক্যাটাগরি এবং ফান্ড ম্যানেজারের ট্র্যাক রেকর্ড দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ঘন ঘন পোর্টফোলিও দেখা (SIP Investment)
প্রতিদিন বা বাজার সামান্য উঠা-নামা করলেই নিজের পোর্টফোলিও দেখার অভ্যাস বিনিয়োগের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে। প্রাত্যহিক ফান্ডের ওঠানামা হলো বাজারের শর্ট-টার্ম নয়েজ বা সাময়িক অস্থিরতা। এটি দেখে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালে মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এবং ভয়ে লোকসানে সব ইউনিট বেচে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য থাকলে পোর্টফোলিও বছরে সর্বোচ্চ একবার বা দু’বার রিভিউ করাই যথেষ্ট। প্রতিদিনের দামের ওঠানামায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
বাজারের ওঠানামায় মূল স্ট্র্যাটেজি বদল (SIP Investment)
বাজার কিছুটা কারেকশন বা পতন দেখলেই মূল বিনিয়োগের পরিকল্পনা বা লক্ষ্য বদলানোর প্রবণতা একটি বড় নেতিবাচক লক্ষণ। প্রতিটি বিনিয়োগকারীর একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা থাকে। বাজারের পতনে ভয় পেয়ে বা উর্ধ্বগতি দেখে হঠাৎ স্ট্র্যাটেজি বদলে ফেললে মূল আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সমস্যা তৈরি হয়। বাস্তব পক্ষে মার্কেট কারেকশন হলো মিউচুয়াল ফান্ডের কম দামে বেশি ইউনিট কেনার দারুণ সুযোগ। তাই বাজার পড়লে বিনিয়োগ বন্ধ না করে নিজের মূল স্ট্র্যাটেজিতে অবিচল থাকা প্রয়োজন।
ত্রৈমাসিক রিটার্নের ওপর নির্ভরতা (SIP Investment)
এসআইপি বা ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড কোনো নির্দিষ্ট আয়ের স্কিম বা ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট নয়। এর থেকে ত্রৈমাসিক বা স্বল্পমেয়াদী স্থির রিটার্ন আশা করা ভুল। তিন মাস অন্তর ভালো রিটার্ন না পেয়ে হতাশ হয়ে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিলে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গঠনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। অন্তত ৭ থেকে ১০ বছরের দৃষ্টিকোণ রেখে ইকুইটি ফান্ডে আসা উচিত। এই দীর্ঘ সময়ের মাঝে বড় ধরনের বাজার পতন আসতেই পারে, যা মেনে নেওয়াই বিনিয়োগের সঠিক নিয়ম।
অন্যের দেখা-দেখি বিনিয়োগ (SIP Investment)
ইউটিউব, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার নানা ভিডিও এবং খবর দেখে অনেক বিনিয়োগকারী আতঙ্কিত হন অথবা লোভে পড়ে না ভেবেচিন্তে টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেন (SIP Investment)। না বুঝে ট্রেন্ড বা অন্য কাউকে অনুকরণ করে দীর্ঘমেয়াদী পোর্টফোলিও পরিবর্তন করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। গুজবে কান না দিয়ে নিজের সার্টিফাইড ফিনান্সিয়াল প্ল্যানারের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।
আরও পড়ুন: Hero Motors IPO: শুরু হল সাবস্ক্রিপশন, গ্রে মার্কেটে বড় চমক!
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ডে সফল হওয়ার অর্ধেক নির্ভর করে ফান্ড নির্বাচনের ওপর, আর বাকি অর্ধেক নির্ভর করে বিনিয়োগকারীর নিজস্ব আচরণ ও ধৈর্যের ওপর। ক্ষণস্থায়ী ভয় ও লোভ জয় করে ১০-১৫ বছর নিয়ম মেনে এসআইপি চালিয়ে যাওয়াই মধ্যবিত্তের স্বপ্নপূরণের সবচেয়ে সহজ ও নিশ্চিত পথ।



