Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধস (Nepal)। রবিবার সকালে আচমকা নেমে আসা তুষারের স্রোতে অন্তত ১০ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত পর্বতারোহণ সহায়ক কর্মী ও অন্যান্য সদস্য রয়েছেন। অভিযান সংগঠকদের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

আগেই ছিল আবহাওয়ার সতর্কতা (Nepal)
হিমলুং হিমাল অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরেই প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়া চলছিল। পরিস্থিতি আঁচ করে গত সপ্তাহেই অভিযান ও রোপ-ফিক্সিং দলের সদস্যদের পাহাড়ের ঢাল থেকে নীচে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে কয়েকজন খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও এলাকায় থেকে গিয়েছিলেন। অভিযানের সংগঠক মিংমা গ্যালজে শেরপা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে তাঁর কিচেন স্টাফের দু’জন সদস্যও রয়েছেন (Nepal)।
৭,১২৬ মিটার উচ্চতায় উদ্ধারই বড় চ্যালেঞ্জ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,১২৬ মিটার উচ্চতায় মানাং জেলার নার-ফু এলাকায় অবস্থিত হিমলুং হিমাল। দুর্গম এই পাহাড়ে হেলিকপ্টারে পৌঁছতেও অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়। তার উপর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল এখনও সেখানে পৌঁছতে পারেনি।
বিস্তৃত হচ্ছে নেপালের আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়
হিমলুংয়ের এই দুর্ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। বঙ্গোপসাগরীয় আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থার প্রভাবে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভারী তুষারপাত এবং বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু জায়গায় রাস্তা বন্ধ হয়েছে, যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। মানাসলু ও ধৌলাগিরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্বতারোহণ অভিযানও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।
পর্যটন শিল্পেও বাড়ছে উদ্বেগ
পরপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নেপালের পর্যটন ও পর্বতারোহণ শিল্পও চাপের মুখে। গত মাসের রসুয়া জেলার ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার রেশ কাটার আগেই হিমলুং হিমালের তুষারধস নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা, উদ্ধারকারী দলের নিরাপত্তা এবং আবহাওয়ার সতর্কতা মেনে চলার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



