Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর আগে যখন উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজ্য, তখনই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রাজপথে নামলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা (Salt Lake Teachers Protest)। সোমবার করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন অভিযানে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। মিছিল বিকাশ ভবনের কাছে পৌঁছতেই ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেউ রাস্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান, আবার পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়িয়ে পড়েন কয়েকজন।
পুজোর আগে চাকরি হারানোর আশঙ্কা (Salt Lake Teachers Protest)
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আইসিটি ঐক্য মঞ্চের ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের অধীনে কর্মরত প্রায় ৩,৭১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হওয়ায় তাঁদের চাকরির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি পুনর্নবীকরণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
ফলে পুজোর মুখে হাতে এসেছে টার্মিনেশন লেটার। তাঁদের কথায়, যখন অন্য কর্মীরা উৎসবের সময়ে বোনাসের অপেক্ষায় থাকেন, তখন তাঁদের হাতে এসেছে চাকরি হারানোর চিঠি।
বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান (Salt Lake Teachers Protest)
করুণাময়ী থেকে মিছিল করে বিকাশ ভবনের দিকে এগোন শিক্ষকরা। পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে সেখানেই অবস্থান শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারি আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দিতে হবে।
এজেন্সি প্রথা বন্ধের দাবি (Salt Lake Teachers Protest)
শিক্ষকদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে এজেন্সি প্রথা বন্ধ করে সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে তাঁদের নিয়োগ। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষার দায়িত্ব পালন করলেও এখনও তাঁরা বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির অধীনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: Durga Puja 2026: মহালয়ায় ইডেনে মোদী, বিদেশের মাটিতেও দুর্গাপুজোর প্রচার
“এবার আমরা খাব কী?”
বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন কাজ করার পর হঠাৎ চাকরি চলে গেলে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর পরিষেবা দেওয়ার পরও ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকরা সরকারি স্বীকৃতি ও স্থায়িত্ব থেকে বঞ্চিত। পুলিশের তরফে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযমের বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, সেই আবেদনও করা হয়েছে। তবে চাকরি ও সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।



