Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য: পুজো শেষ হলেই প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে শুরু হয় ব্যস্ততা (Durga Puja)। প্রতিমা বিসর্জনের পর দ্রুত জল থেকে কাঠামো ও প্রতিমার অবশিষ্টাংশ সরিয়ে নেওয়া নিয়ে প্রতিবছরই নানা প্রশ্ন ওঠে। এবার সেই ব্যবস্থাতেই বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। শহর ও শহরতলির একাধিক নিরঞ্জন ঘাটে কনভেয়ার বেল্ট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঘাটে ঘাটে নতুন পরিকাঠামোর ভাবনা (Durga Puja)
রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এবং জেলাশাসকদের কাছে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নির্দেশ পৌঁছেছে। কোন এলাকায় কতগুলি প্রতিমা নিরঞ্জনের ঘাট রয়েছে, কোথায় কতগুলি কনভেয়ার বেল্ট প্রয়োজন এবং পুরো ব্যবস্থায় সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে—সেই বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদের নির্দেশিকায় ঘাটগুলিতে দৃষ্টিনন্দন ও সম্মানজনকভাবে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ক্রেনের বদলে কনভেয়ার বেল্ট? (Durga Puja)
এর আগে প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে ক্রেন ব্যবহার না করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় প্রতিমা জলে পড়ার পর দ্রুত তা কীভাবে সরানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সেই সমস্যার বিকল্প হিসেবেই কনভেয়ার বেল্টের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। প্রতিমা জলে পড়ার পর নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা দ্রুত জল থেকে তুলে সরিয়ে নেওয়া গেলে একদিকে যেমন ঘাটে ভিড় ও জট কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে গঙ্গা-সহ বিভিন্ন জলাশয়ে দূষণ কমাতেও সাহায্য করবে এই ব্যবস্থা।
বড় ঘাটে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় (Durga Puja)
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সহজ হবে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। কলকাতার বাজেকদমতলা, নিমতলা কিংবা বাবুঘাটের মতো বড় ঘাটে পর্যাপ্ত জায়গা, জলের গভীরতা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর সঙ্গে দীর্ঘ কনভেয়ার বেল্ট কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আধিকারিকদের একাংশের মধ্যে চিন্তা রয়েছে। সব ঘাটের আকার ও পরিকাঠামো এক নয়। ফলে প্রতিটি জায়গায় একই ধরনের কনভেয়ার বেল্ট বসানো বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
বিকল্প হিসেবে লোহার ট্রলির ভাবনাও (Durga Puja)
পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের মতে, যেখানে কনভেয়ার বেল্ট বসানো সম্ভব হবে না, সেখানে লোহার ট্রলি বা অন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মূল লক্ষ্য একটাই—নিরঞ্জনের পর যত দ্রুত সম্ভব প্রতিমা জল থেকে সরিয়ে নেওয়া।
আরও পড়ুন: South Point School: ক্লাসের মধ্যেই সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত! সাউথ পয়েন্ট স্কুলে চাঞ্চল্য
রিপোর্টের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এই গোটা ব্যবস্থার তদারকির জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর দু’জন নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছে। তাঁরা হলেন দপ্তরের স্পেশাল সেক্রেটারি দেবপ্রিয় বিশ্বাস এবং কেএমডিএ-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার সুমন সাহা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরসভা থেকে প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। ঘাটভিত্তিক প্রয়োজন, সম্ভাব্য খরচ এবং বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে পাওয়ার পরেই আর্থিক অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এবারের দুর্গাপুজোয় ক্রেনের পরিবর্তে কনভেয়ার বেল্ট কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর।



