Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নানা পটেকর (Nana Patekar)। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দি, মারাঠি ও অন্যান্য ভাষার একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। খলনায়ক থেকে শুরু করে পুলিশ কর্মকর্তা, বাবা কিংবা সাধারণ মানুষের চরিত্র—বিভিন্ন ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
তবে নানা পটেকরের প্রয়াণ নিয়ে যে দাবি ছড়িয়েছে, সেটি প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আকস্মিক মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ এবং শেষ মুহূর্তের মতো তথ্য নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
নানা পটেকরের আসল নাম (Nana Patekar)
নানা পটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পটেকর। অভিনয়জগতে অবশ্য ‘নানা পটেকর’ নামেই তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব, সংলাপ বলার ধরন এবং চরিত্রের মধ্যে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক অভিনেতাদের থেকে আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। অভিনয়ে আসার আগে তিনি মুম্বইয়ের স্যার জে. জে. স্কুল অব আর্টস-এ পড়াশোনা করেন। থিয়েটারের অভিজ্ঞতাও তাঁর অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
১৯৭৮ সালে শুরু অভিনয়জীবন (Nana Patekar)
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে নানা পটেকরের চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। তাঁর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সংলাপের ওঠানামা, চোখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা এবং চরিত্র অনুযায়ী কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন। কখনও ভয়ঙ্কর খলনায়ক, কখনও কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনও আবেগপ্রবণ বাবার চরিত্রে তাঁকে দর্শক দেখেছেন। ফলে তাঁর অভিনয় শুধু সংলাপনির্ভর ছিল না, বরং চরিত্রের আবেগকেও তিনি অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতেন।
‘পরিন্দা’ থেকে ‘ক্রান্তিবীর’—সাফল্যের শিখরে (Nana Patekar)
নানা পটেকরের অভিনয়জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি ‘পরিন্দা’ (১৯৮৯)। ছবিতে আন্না চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ারের স্বীকৃতিও পান। এরপর ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। ‘ক্রান্তিবীর’-এ প্রতাপ নারায়ণ তিলক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান।
নানা পটেকরের জনপ্রিয় ছবিগুলি (Nana Patekar)
দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা পটেকর বহু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘গুলাম-ই-মুস্তফা’, ‘আব তাক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’, ‘ওয়েলকাম’, ‘রাজনীতি’ এবং ‘দ্য অ্যাটাকস অব ২৬/১১’। বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’-এ উদয় শেঠ চরিত্রে তাঁর কমেডি অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। অন্যদিকে ‘আব তাক ছাপ্পান’-এ এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট সাধু আগাশে চরিত্রেও তিনি নিজের অভিনয়ের অন্যরকম দিক তুলে ধরেন।
জাতীয় পুরস্কার ও পদ্মশ্রী সম্মান (Nana Patekar)
নানা পটেকরের অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতি এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি ফিল্মফেয়ারসহ বিভিন্ন সম্মান পেয়েছেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান এবং অভিনয় প্রতিভার জন্য এই সম্মান তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।
তাঁর সর্বশেষ ছবি কোনটি? (Nana Patekar)
নানা পটেকরের সাম্প্রতিক কাজের তালিকায় ‘বনবাস’ (Vanvaas)-এর নাম উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের এই ছবিতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য সাম্প্রতিক কাজ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে তাঁর ‘সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি’, ‘শেষ ছবি’ বা মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া ছবি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ছবির মুক্তির তারিখ ও নির্ভরযোগ্য চলচ্চিত্র-সূত্র মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইভাবে নানা পটেকরের মৃত্যুর দাবি এবং মৃত্যুর কারণও নিশ্চিত সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশ করাই উচিত।
আরও পড়ুন: Suvendu on Mamata: মমতার পায়ে “ভুয়ো” চোট, তদন্তের দাবি শুভেন্দুর
নানা পটেকরের অভিনয়জীবন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর শক্তিশালী অভিনয়, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং বহুমুখী চরিত্রায়ন তাঁকে দর্শকের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।



