Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উৎসবের মরশুমে আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ ও অগ্নিসুরক্ষার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার (Kali Puja)। কালীপুজো, দীপাবলি, ছট এবং জগদ্ধাত্রী পুজোকে সামনে রেখে বাজি পোড়ানো ও ফানুস ওড়ানো নিয়ে একাধিক কড়া বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, পুলিশ, দমকল ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, আদালতের নির্দেশ মেনেই উৎসব পালন করতে হবে।
‘গ্রিন ক্র্যাকার’ ছাড়া বাজি নয় (Kali Puja)
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অনুমোদিত ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ বা পরিবেশবান্ধব বাজিই ব্যবহার করা যাবে। দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমতি রয়েছে। ছটপুজোর ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শব্দসীমার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া নজর। শব্দ সৃষ্টিকারী আতসবাজির সর্বোচ্চ সীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং আলো সৃষ্টিকারী আতসবাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেল নির্ধারিত হয়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম, বৃদ্ধাশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে ‘সাইলেন্স জোন’ বজায় রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ফানুসে নিষেধাজ্ঞা, অনুমতি ছাড়া নয় (Kali Puja)
আকাশ প্রদীপ বা স্কাই ল্যান্টার্ন নিয়েও প্রশাসন সতর্ক। ‘গ্রিন ক্র্যাকার’-এর আওতায় ফানুস না থাকায় সাধারণভাবে তা ওড়ানো নিষিদ্ধ। তবে কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে ফানুস ওড়াতে হলে আগে দমকল বিভাগের অনুমতি বা লাইসেন্স নিতে হবে। এডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া কোনওভাবেই এই ধরনের বেলুন বা ফানুস ওড়ানো যাবে না।
বাজির বাজারেও বাড়ছে নজরদারি (Kali Puja)
বাজি উৎপাদন, মজুত, পরিবহণ ও বিক্রির ক্ষেত্রেও বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। আবাসিক এলাকা থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় বাজির বাজার রাখা এবং দোকানগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বাজি বিক্রি, মজুত বা নিয়ম ভাঙার অভিযোগে পণ্য বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি গ্রেপ্তারও হতে পারে।
আরও পড়ুন: Cyclone Arnab Effect: ৩১টি বাড়ি ধূলিসাৎ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়! বিপর্যস্ত অন্ধ্রে মৃত ৩
QR কোডেই যাচাই বৈধ বাজি
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, অনুমোদিত সবুজ বাজির প্যাকেটে থাকা QR কোড স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ বাজিটির বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। বহুতল আবাসনেও নিয়ম মেনে বাজি পোড়ানোর বিষয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। উৎসবের আনন্দ যাতে অন্যের বিপদ বা পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়, সেই বার্তাই এবার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।



