Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সুমন হাজরাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট (RG Kar Case)। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের আদালত ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে জামিন পেলেও আদালতের একাধিক শর্ত তাঁকে মেনে চলতে হবে।
বিচার শুরুতেই দেরি, আদালতের নজরে সাক্ষ্যগ্রহণ (RG Kar Case)
মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও কার্যত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই মামলায় মোট ১৪৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে আদালত।
কলকাতা-উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়ার নিষেধ (RG Kar Case)
জামিন মঞ্জুর করলেও সুমন হাজরার চলাফেরার ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে নিজের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনওরকম প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই শর্তগুলি রাখা হয়েছে।
সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার (RG Kar Case)
আরজি করের আর্থিক অনিয়মের মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুমন হাজরা। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, তিনি আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একই মামলায় ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে ওই ব্যবসায়ীরা হাসপাতালের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেআইনি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন।
ধর্ষণ-খুনের তদন্ত থেকেই সামনে আসে আর্থিক দুর্নীতি (RG Kar Case)
আরজি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমেই হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। সেই সূত্রে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের পৃথক তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তদন্তের পর্বে সন্দীপ ঘোষ-ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন: Cyclone Arnab Effect: ৩১টি বাড়ি ধূলিসাৎ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়! বিপর্যস্ত অন্ধ্রে মৃত ৩
বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময়, তাই আপাতত জামিন
১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ায় মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে সুমন হাজরাকে দীর্ঘদিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আদালত বিবেচনা করেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়। তবে মামলার বিচার চলবে এবং আদালতের সমস্ত শর্ত মেনে তাঁকে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে।



