Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শিয়ালদহে এনআরএস হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে ‘পকেট পরোটা’ বিক্রি করে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল রাজুদা (Sealdah)। শনিবার সকালে আচমকাই তাঁর দোকানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। শুধু রাজুদার দোকান নয়, শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন একাধিক খাবারের দোকানেও চলে অভিযান। খাবারের গুণগত মান এবং স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।

সিঙারা-কচুরি থেকে মাছ-মাংস, সংগ্রহ নমুনা (Sealdah)
অভিযানে বিভিন্ন দোকান থেকে সিঙারা, কচুরি, ডাল, তরকারি, মাছ, মাছের ডিম এবং চিকেনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে প্রাথমিকভাবে রাসায়নিক পরীক্ষাও করা হয়। পরীক্ষায় বেশ কিছু খাবার মানোত্তীর্ণ হয়নি বলে আধিকারিকরা জানান। এরপর প্রায় ১০০টি সিঙারা, কচুরির ডাল, তরকারি, পচা চিকেন, মাছ-সহ বিভিন্ন খাবার ফেলে দেওয়া হয়। দোকানদারদেরও খাবার সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
রাজুদার তরকারি পাশ ‘ফ্লোর টেস্টে’ (Sealdah)
অভিযানের মধ্যে রাজুদার দোকানেও খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাঁর তৈরি তরকারি প্রাথমিক ‘ফ্লোর টেস্টে’ পাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রায় সাত দিন পর সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আসার কথা। ফলে আপাতত ল্যাব রিপোর্টের দিকেই নজর রয়েছে।
লাইসেন্স কোথায়? আধিকারিকদের প্রশ্নে অপ্রস্তুত রাজুদা
অভিযানের সময় রাজুদার কাছে পরোটা বিক্রির লাইসেন্স দেখতে চান আধিকারিকরা। কিন্তু কোনও লাইসেন্স দেখাতে পারেননি তিনি। রাজুদার দাবি, লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়মকানুন সম্পর্কে তাঁর আগে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। আধিকারিকরা বিষয়টি জানানোর পর এবার লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভোরের ট্রেনে কলকাতা, দুপুরেই বাড়ি ফেরেন (Sealdah)
রাজুদা জানান, বাড়িতে প্রতিদিন প্রায় ১০-১২ কেজি ময়দার পরোটা তৈরি করেন। এরপর ভোরের ট্রেনে কলকাতায় এসে সেগুলি বিক্রি করেন এবং সকাল ১১টার মধ্যে আবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর বক্তব্য, খাবারের মান নিয়ে কেউ আপত্তি করতে পারবেন না। তবে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে এবার থেকে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: North Bengal: ভুটানের বিপর্যয়ের প্রভাব সংকোশে, মরা মাছ ঘিরে আতঙ্ক
ক্যাপ-গ্লাভস পরে নতুনভাবে দোকান চালানোর প্রস্তুতি
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা রাজুদাকে সার্জিক্যাল ক্যাপ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি খাবার তৈরির ও বিক্রির সময় গ্লাভস ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে। রাজুদাও জানিয়েছেন, এবার থেকে তিনি ক্যাপ ও গ্লাভস ব্যবহার করবেন। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এবার স্বাস্থ্যবিধি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স মেনে দোকান চালানোই তাঁর কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ল্যাব রিপোর্টে তাঁর খাবারের মান নিয়ে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর।



