Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বয়স মাত্র ১৫। যে সময়ে সমবয়সিরা স্কুল, বন্ধু আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত, সেই বয়সেই ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেঙ্গালুরুর বাড়ি ছেড়ে পর্তুগালে পাড়ি দিয়েছিলেন কেরলের মেয়ে রিনশা মরিয়ম (Rinsha Mariyam)। আড়াই বছরের লড়াই পেরিয়ে এখন ১৮ বছরের রিনশা ইউরোপের ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করছেন।
পর্তুগালের যুব লিগে নতুন চ্যালেঞ্জ (Rinsha Mariyam)
বর্তমানে পর্তুগালের প্রথম ডিভিশনের যুব লিগে ক্লুবে দে আলবেরিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দলের হয়ে খেলছেন রিনশা। বেনফিকা ও স্পোর্টিং সিপির মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। নতুন ভাষা, খাবার, আবহাওয়া ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন ফুটবল অনুশীলন ও পড়াশোনা। ইতিমধ্যেই উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনাও শেষ করেছেন।
মেয়ের স্বপ্নে ভরসা বাবা-মায়ের (Rinsha Mariyam)
মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেয়েকে বিদেশে পাঠানো সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন বাবা এমপি রশিদ। তাঁর কথায়, ছোট থেকেই রিনশা নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন। কঠোর পরিশ্রম করে স্বপ্নপূরণের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে সে। মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন রশিদ ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম্বি।
মার্শাল আর্ট থেকে ফুটবলের মাঠে (Rinsha Mariyam)
ফুটবলে আসার আগে মার্শাল আর্টেও সাফল্য পেয়েছে রিনশা। মাত্র ন’বছর বয়সে নেপালে আমন্ত্রণমূলক তায়কোন্ডো প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে অংশ নিয়ে সোনা জিতেছিল সে। কারাতেতেও রয়েছে ব্ল্যাক বেল্ট। স্কুলে টানা তিন বছর সেরা অ্যাথলিট নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তার।

বেঙ্গালুরু এফসি থেকে ইউরোপ (Rinsha Mariyam)
ফুটবলে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে দু’টি মরশুম খেলেছে রিনশা। কর্নাটকের বিভিন্ন লিগে নজর কাড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছে রাজ্যের জুনিয়র দলেও। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ডাক পেয়েছিল ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ শিবিরে। পর্তুগালে খেলার সুযোগ পেয়ে দ্বিতীয় বার ভাবেনি সে। ছোট থেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তার আদর্শ।

লক্ষ্য বার্সেলোনার জার্সি (Rinsha Mariyam)
ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করে দক্ষতা ও ফিটনেস বাড়িয়েছে রিনশা। জুভেফোর্স ও নেগে-র হয়ে খেলার পর জায়গা করে নেয় ক্লুবে দে আলবেরিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। তার স্বপ্ন একদিন এফসি বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চাপানো। ফুটবলের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সাফল্য পেয়েছে সে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভালো ফলের জন্য পর্তুগালের কোয়েলহো দে কালভাও স্কুল থেকে দু’টি শিক্ষাগত ডিপ্লোমাও পেয়েছে।

আরও পড়ুন: Russia: ছ’বছর পর অলিম্পিকে জাতীয় পতাকা নিয়ে ফিরল রাশিয়া
ফুটবল পরিবারের গর্ব (Rinsha Mariyam)
রিনশার পরিবারের কাছেও ফুটবল আবেগের নাম। চার ভাইবোনই ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত (Rinsha Mariyam)। দাদা মহম্মদ রিশান কর্নাটক সুপার ডিভিশনে হ্যাল এফসির হয়ে খেলেন। ১৩ বছরের বোন মিনহা মরিয়ম রয়েছে বেঙ্গালুরু এফসির জুনিয়র মহিলা দলে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য, ১০ বছরের মহম্মদ রাইয়ানও খেলছে বেঙ্গালুরুর স্পোর্টহুড এফসিতে। পরিবারের সমর্থন আর নিজের পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই ইউরোপের ফুটবলে আরও দূর এগিয়ে যেতে চায় রিনশা।



