Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেবদেবীর মূর্তি নিয়ে মন্তব্য করে ফের বিতর্কে মধ্যপ্রদেশের তরুণ সন্ন্যাসী বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (Bageswar Baba)। রামের গুণগান করতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি ও তাঁর বংশীধারী রূপ নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আপত্তিকর মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ক্ষমাও চেয়ে নেন বাগেশ্বর বাবা।

‘কৃষ্ণ বাঁকা, রাম সোজা’—কী বলেছিলেন? (Bageswar Baba)
মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, কৃষ্ণের মূর্তি বাঁকা ভঙ্গিতে দেখা গেলেও রাম সোজা পথে চলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষ্ণের হাতে বাঁশি থাকলেও রামের হাতে রয়েছে ধনুক। এমনকি তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাঁশি কোনও কাজে লাগে না, রামের ধনুকই আসল।’ তাঁর এই বক্তব্যের পরই শুরু হয় বিতর্ক।
ক্ষোভ মথুরা-বৃন্দাবনের সাধুদের (Bageswar Baba)
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্যে বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ মথুরা-বৃন্দাবনের সন্ন্যাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, হিন্দু ধর্মে শ্রীকৃষ্ণের নানা রূপ ও লীলার সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। কারও কাছে তিনি আরাধ্য দেবতা, আবার কারও কাছে বালক কৃষ্ণ পরিবারের সন্তানের মতোই আপন। ফলে প্রকাশ্য মঞ্চে কৃষ্ণের বংশীধারী রূপ নিয়ে এমন মন্তব্য যথেষ্ট সংবেদনশীল বলেই মনে করছেন তাঁরা।
চাপ বাড়তেই ক্ষমা চেয়ে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ (Bageswar Baba)
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চান বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য কৃষ্ণকে অসম্মান করা ছিল না বলেই সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তাতেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সমালোচকদের প্রশ্ন, ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত দেবদেবীকে নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার সময় কি আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল না?

আরও পড়ুন: Government Job: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য, মিলবে গ্রুপ-ডি চাকরি
আগেও বাঙালির রোষের মুখে
এর আগেও কলকাতায় এসে দুর্গাপুজোর সময় আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলার অভিযোগে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। এবার কৃষ্ণের বাঁশি ও মূর্তি নিয়ে মন্তব্য নতুন করে তাঁকে সমালোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর বক্তব্যে আরও দায়িত্বশীলতা ও সংযমের প্রয়োজন রয়েছে কি না।



