Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিয়েছে বিজেপি সরকার (Technical Education)। সেই লক্ষ্যেই এবার রাজ্যের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক ও প্রশিক্ষক এই যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসা শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০০৪-০৫ সালে নিয়োগ, এবার নথি যাচাই (Technical Education)
জানা গিয়েছে, ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সময় নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। স্বল্পমেয়াদি বৃত্তিমূলক কোর্সের প্রশিক্ষকদের অন্তত উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পাশাপাশি এনসিভিটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি শিক্ষার উপর প্রয়োজনীয় কোর্স করা বাধ্যতামূলক ছিল। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের ন্যূনতম অনার্স-সহ স্নাতক ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা এই শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের সেই যোগ্যতাই এবার নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করবে সরকার।
বেতন বৃদ্ধির দাবির মধ্যেই কেন এই পদক্ষেপ? (Technical Education)
বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বহু শিক্ষক ও প্রশিক্ষক বর্তমানে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কাজ করে আসছেন। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষার শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা এখনও মেলেনি বলে দাবি।ফলে তাঁরাও দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। সেই দাবির প্রেক্ষাপটেই এবার প্রথমে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নিয়োগের সময়কার শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে সার্টিফিকেট (Technical Education)
রাজ্য কারিগরি শিক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের প্রথমে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত নথি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। এরপর নির্ধারিত কেন্দ্রে হাজির হয়ে অরিজিনাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ শুধু অনলাইনে নথি জমা দিলেই হবে না, মূল শংসাপত্রও যাচাই করা হবে।
আরও পড়ুন: Government Job: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে রাজ্য, মিলবে গ্রুপ-ডি চাকরি
নজর যোগ্যতার নথিতে
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন পলিটেকনিক কলেজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের নথি খতিয়ে দেখা হবে। এই যাচাই শেষ হওয়ার পরই তাঁদের বেতন বৃদ্ধি বা ভবিষ্যৎ পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



