Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে হারের ধাক্কা (IND VS NZ)। তবে একদিনের ক্রিকেটে পা রেখেই বদলে গেল ছবিটা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে দুরন্ত জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে কিউয়িদের ৫ উইকেটে হারাল ভারত। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৫৬ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিলেন শুভমন গিলরা। বল হাতে অর্শদীপ সিং, গুরনূর ব্রার ও অংশুল কাম্বোজের দাপট। ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়লেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। আর ব্যাট হাতে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন কোহলি। ওয়ানডেতে তিন নম্বরে ব্যাট করে ১৩ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। সব মিলিয়ে সিরিজের শুরুতেই দাপট দেখাল ভারত।
১৮৫ রানেই শেষ নিউজিল্যান্ড (IND VS NZ)
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। তাঁর সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে শুরু থেকেই আগুনে বোলিং করেন ভারতীয় পেসাররা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। অর্শদীপ সিংয়ের সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় কিউয়ি ব্যাটারদের।
চারটি উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন অর্শদীপ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন তরুণ পেসার গুরনূর ব্রার। তাঁর ঝুলিতে যায় তিনটি উইকেট। অন্যদিকে, অংশুল কাম্বোজ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে কিউয়িদের উপর চাপ বজায় রাখেন। ভারতীয় বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে ৪০.২ ওভারেই ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
কিউয়িদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন টিম সেইফার্ট। ৪৩ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন ব্লেয়ার টিকনার। ২৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন নিউজিল্যান্ডের ১১ নম্বর ব্যাটার। তাঁর এই লড়াই কিছুটা হলেও দলের রান বাড়ায়। কিন্তু তাতেও ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো জায়গায় পৌঁছতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
ফিল্ডিংয়ে রোহিত-কোহলির ঝলক (IND VS NZ)
শুধু বল হাতে নয়, ফিল্ডিংয়েও এদিন ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। বিশেষ করে বিরাট কোহলির অবিশ্বাস্য ক্যাচ এবং রোহিত শর্মার দুরন্ত রানআউট ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। বয়স ও ফিটনেস নিয়ে নানা আলোচনা হলেও মাঠে তাঁদের ক্ষিপ্রতা বুঝিয়ে দিল, অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের দক্ষতাও ধরে রেখেছেন দুই তারকা।
কোহলি এক হাতে দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে, রোহিত শরীর শূন্যে ভাসিয়ে বল তুলে উইকেটকিপার লোকেশ রাহুলের দিকে ছুড়ে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উইকেট ভেঙে দেন রাহুল। রানআউট হয়ে ফিরতে হয় ড্যারিল মিচেলকে। এই দুই মুহূর্তে কিউয়িদের উপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
বারবার বদলাল ভারতের জয়ের সমীকরণ (IND VS NZ)
১৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই রান তোলার চেষ্টা করে ভারত। তবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচে বারবার ছন্দপতন ঘটে। ভারতের ইনিংসের ১১তম ওভারে প্রায় এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। ফলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ভারতের লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণ করে ৪০ ওভারে ১৬৭ রান করা হয়।
কিন্তু খেলা ফের শুরু হওয়ার পর এক ওভারও পুরোপুরি কাটেনি, আবার বৃষ্টির জন্য বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ। দ্বিতীয়বার খেলা শুরু হলে ফের বদলে যায় সমীকরণ। এবার ৩২ ওভারে ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪৩ রান। চাপের পরিস্থিতিতেও ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে ভারতীয় ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ২২.৪ ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ৫৬ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ভারত।
বিশ্বরেকর্ড বিরাটের (IND VS NZ)
ম্যাচের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত আকর্ষণ ছিলেন বিরাট কোহলি (IND VS NZ)। রান তাড়া করতে নেমে আরও একবার নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিলেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিন নম্বরে ব্যাট করে ১৩ হাজার রানের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন কোহলি। এই পজিশনে ব্যাট করে ১৩ হাজার রান করা প্রথম ক্রিকেটার হলেন তিনি।
ম্যাচের আগে এই নজির থেকে মাত্র ১২ রান দূরে ছিলেন কোহলি। ভারতীয় ইনিংসের সপ্তম ওভারে নিজের ১৩তম বলে সেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন তিনি। মাত্র ২৫১টি ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন ভারতীয় তারকা। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ও ব্যাটিং দক্ষতার আরও একটি বড় প্রমাণ এই কীর্তি।
এদিন রোহিত শর্মা খাতা না খুলেই ফিরে যান। এরপর শুভমন গিলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইনিংস সামলান কোহলি। দু’জনের মধ্যে ১১৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। ৩৭ রান করে গিল আউট হওয়ার পরেও নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাট করতে থাকেন কোহলি। শেষ পর্যন্ত ৭৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। যদিও শতরান অধরা থেকে যায়, তাঁর বিশ্বরেকর্ডই হয়ে ওঠে ম্যাচের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়।
জয় নিশ্চিত করলেন রাহুল-নমন (IND VS NZ)
কোহলি আউট হওয়ার সময় ভারতের রান ছিল ১২৪। এরপর শ্রেয়স আইয়ার ১৫ রান করে ফিরে যান। অক্ষর প্যাটেলও কোনও রান না করেই আউট হওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হয় ভারতীয় শিবিরে। তবে ম্যাচ তখনও ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বাকি কাজটা সামলে নেন লোকেশ রাহুল ও নমন ধীর।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আর কোনও বিপদে পড়তে হয়নি ভারতকে। নির্ধারিত সংশোধিত লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ফলে পাঁচ উইকেটে জয় নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
আরও পড়ুন: Ranji Trophy: রনজি ট্রফিতে যৌন হেনস্থা! নির্বাসিত গোটা দল, ড্রেসিংরুমে তালা, হাজির পুলিশ
ওয়ানডেতে ভারতের দাপট (IND VS NZ)
টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও শেষ দুই ম্যাচে হারের কারণে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল ভারতীয় শিবিরে (IND VS NZ)। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বোলিং, ফিল্ডিং ও ব্যাটিং—তিন বিভাগেই নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল দল। অর্শদীপ ও গুরনূরের উইকেট নেওয়ার দক্ষতা, রোহিত-কোহলির ফিল্ডিং এবং কোহলির ঐতিহাসিক ইনিংস ভারতকে এনে দিল দাপুটে জয়।
তবে সিরিজ এখনও বাকি। প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে পরের ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখাই এখন ভারতের লক্ষ্য। আর বিরাট কোহলির সামনে থাকবে নিজের দুরন্ত ফর্মকে আরও বড় ইনিংসে পরিণত করার সুযোগ। আপাতত প্রথম ওয়ানডের পর ভারতীয় সমর্থকদের মুখে একটাই কথা—রেকর্ডের কোহলি, আর জয়ের ছন্দে টিম ইন্ডিয়া!



