Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইএসএলে গোলের বন্যা, আর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে গোলের জন্য হাহাকার! একই দলের দুই রকম ছবি (East Bengal)। ঘরোয়া ফুটবলে গোলের পর গোল করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। আল শোর্তার বিরুদ্ধে হারের পর আল সিবের বিরুদ্ধেও সেই একই গল্প। একের পর এক সুযোগ নষ্ট, গোলের সামনে অসহায়তা এবং শেষ পর্যন্ত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া। এডমুন্ড, ডেভিডদের ব্যর্থতায় এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র পরবর্তী পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল লাল-হলুদের। ম্যাচের পর কোচ অস্কার ব্রুজ়োঁর পরিবর্তে স্প্যানিশ কোচ প্যানাজিওটিস ডিলমপেরিসের নাম নয়, বরং ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের হতাশাই যেন ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন তুলছে—গোল মিসের এই রোগের ওষুধ কোথায়?
সুযোগের পর সুযোগ, তবু গোল নেই! (East Bengal)
আল শোর্তার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে ঘরের মাঠে হারের পরও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা বেঁচে ছিল ইস্টবেঙ্গলের। কিন্তু আল সিবের বিরুদ্ধে সেই সম্ভাবনাতেও কার্যত ইতি পড়ল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল লাল-হলুদ। একের পর এক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেললেন এডমুন্ড, ডেভিড, রামিরাজরা।
ম্যাচের পরিস্থিতি এমন ছিল যে, ইস্টবেঙ্গল অনায়াসেই জয় তুলে নিতে পারত। এমনকী প্রথমার্ধেই দুই থেকে তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল দলের সামনে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হল শেষ পর্যন্ত। প্রতিপক্ষ যখন অল্প সুযোগ পেয়েও গোল করে গেল, তখন ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা আরও প্রকট হয়ে উঠল। এক কথায়, জেতার মতো ম্যাচ হারল হাবাসের দল।
হতাশ হাবাস (East Bengal)
ম্যাচের পর গোল মিস নিয়ে নিজের হতাশা গোপন করেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। তাঁর কথায়, দল সাত থেকে আটটি সুযোগ পেয়েছিল। তার মধ্যে অন্তত তিন থেকে চারটি সুযোগ থেকে গোল হওয়া উচিত ছিল। প্রথম ৪৫ মিনিটেই দুই থেকে তিন গোলে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেও আক্ষেপ ঝরে পড়ে তাঁর গলায়।
হাবাসের বক্তব্য, প্রতিপক্ষ ৮০ মিনিট পর্যন্ত তেমন কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু শেষ দিকে পাওয়া দুটি সুযোগ থেকেই গোল করে দেয় তারা। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল গোলের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। একদিন পাঁচ গোল করা দল অন্যদিন গোলই পাচ্ছে না—এই ধারাবাহিকতার অভাবই এখন কোচের সবচেয়ে বড় চিন্তা।
কিন্তু প্রশ্ন হল, শুধু সুযোগ তৈরি করলেই তো হবে না, সেগুলিকে গোলে পরিণত করাও জরুরি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই। সেখানে সামান্য ভুলেরও বড় মূল্য দিতে হয়। ইস্টবেঙ্গলকে যেন বারবার সেই শিক্ষাই দিচ্ছে এএফসি-র মঞ্চ।
প্রশ্ন বিদেশি নির্বাচন নিয়ে (East Bengal)
ইস্টবেঙ্গলের গোল মিসের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে। লোবা ও লুকাসকে কি আরও আগে মাঠে নামানো যেত? আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিদেশি ফুটবলারদের উপস্থিতি অনেক সময়ই পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশেষ করে যখন দলের ছয় বিদেশিই খেলার জন্য প্রস্তুত, তখন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এডমুন্ড, ডেভিড ও রামিরাজরা যখন একের পর এক সুযোগ নষ্ট করছিলেন, তখন ক্রিস ইকোনোমিডিসকে কেন নামানো হল না, সেই প্রশ্নও উঠছে। অবশ্য লোবা ও লুকাসকে আগে নামালেই যে ফল বদলে যেত, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু গোলের সামনে যখন দলের কার্যকারিতা কমে আসছে, তখন বিকল্পদের ব্যবহারের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
হাবাসের হতাশার অন্যতম কারণও সম্ভবত এই যে, দলের আক্রমণভাগ সুযোগ তৈরি করতে পারছে, কিন্তু সেগুলি কাজে লাগানোর জায়গায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। কৌশল বদল, পরিবর্তন কিংবা নতুন পরিকল্পনা—কোন পথে এই সমস্যার সমাধান হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ফুটবলারদের রিকভারি নিয়েও চিন্তা (East Bengal)
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র পাশাপাশি আইএসএলেও খেলতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। ফলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দল নামানোর প্রয়োজন পড়ছে। টানা ম্যাচের সূচিতে ফুটবলারদের শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে। হাবাসের মতে, পর্যাপ্ত শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ না পাওয়া দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।
এক প্রতিযোগিতা থেকে অন্য প্রতিযোগিতায় দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। প্রতিপক্ষের ধরন, খেলার গতি এবং কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে হয়। তার উপর টানা ম্যাচে ক্লান্তি জমলে গোলের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ক্লান্তি গোল মিসের অন্যতম কারণ হলেও, প্রতিবার সেই যুক্তিতে ব্যর্থতাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব ফুটবলারদেরই।
আনোয়ারের চোটও বড় ধাক্কা (East Bengal)
ম্যাচে পেনাল্টি না পাওয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাবাস (East Bengal)। তার উপর ১৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আনোয়ারকে। ইস্টবেঙ্গল কোচ স্বীকার করেছেন, আনোয়ার দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তাঁর অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে দলের জন্য ক্ষতি।
তবে আনোয়ার মাঠে থাকলে ফল অন্য রকম হত কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। কারণ, ইস্টবেঙ্গলের মূল সমস্যা ছিল গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা। রক্ষণে আরও শক্তিশালী উপস্থিতি হয়তো প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে সাহায্য করত, কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতার সমাধান আলাদা করে খুঁজতেই হবে।
আইএসএলে ঘুরে দাঁড়ানোর পালা (East Bengal)
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র যাত্রা কার্যত শেষ ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal)। এবার নজর ঘরোয়া প্রতিযোগিতায়। শনিবার চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে লাল-হলুদ। হাবাস জানিয়েছেন, ম্যাচ ধরে ধরে পরিস্থিতি বুঝে এগোতে চান তাঁরা। চেন্নাই ম্যাচের পর বিরতি থাকায় সেই সময়টিকে দলকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার কাজে লাগাতে চান স্প্যানিশ কোচ।
কিন্তু শুধু বিশ্রাম বা রিকভারি দিয়ে কি গোল মিসের সমস্যা মিটবে? নাকি আক্রমণভাগের ফুটবলারদের অনুশীলনে ফিনিশিংয়ের উপর বাড়তি জোর দিতে হবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে হবে কোচিং স্টাফকে। আইএসএলে গোল করার ক্ষমতা যে দলের রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। এখন সেই দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের মতো চাপের পরিস্থিতিতেও কাজে লাগানোই আসল চ্যালেঞ্জ।
এএফসি-র বিদায় ইস্টবেঙ্গলের কাছে বড় ধাক্কা। তবে এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘরোয়া লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। হাবাসের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ—গোল মিসের রোগ সারিয়ে দলকে ফের জয়ের রাস্তায় ফেরানো। কারণ, ফুটবলে সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতায় গোলই।



