Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল :ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির উপর শুল্ক আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন(Zelenskyy On US Tariff)। তাঁর মতে, যুদ্ধ থামাতে হলে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করা জরুরি। এবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘যে দেশ এখনও রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন চালাচ্ছে, তাদের উপর শুল্ক আরোপ সঠিক পদক্ষেপ।’’
মোদি–পুতিনের সৌহার্দ্য, ট্রাম্পের কটাক্ষ (Zelenskyy On US Tariff)
জেলেনস্কির মন্তব্য এসেছে (Zelenskyy On US Tariff) এমন সময়ে, যখন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (sco) সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) , রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একসঙ্গে হাসি–ঠাট্টায় মেতে উঠতে দেখা যায়। মোদী ও পুতিনকে একসঙ্গে গাড়িতে করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থানে পৌঁছতে দেখা যায়, যেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট তাঁদের আলোচনায় কাটে। এই দৃশ্যের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘‘তারা অন্ধকার দিক বেছে নিয়েছে।’’
রাশিয়ার জ্বালানিতে নির্ভরশীলতা অব্যাহত (Zelenskyy On US Tariff)
ভারত ও চিন এখনও রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা(Zelenskyy On US Tariff)। গবেষণা সংস্থা Centre for Research on Energy and Clean Air-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া কেবল জ্বালানি রপ্তানি থেকেই প্রায় ৯৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধীরে ধীরে রাশিয়ার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়েছে, সম্পূর্ণভাবে কেনা বন্ধ করতে পারেনি। তারা ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আরও পড়ুন : Russia Ukraine War : ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ফোনে কথা মোদি-মাক্রোঁর, ফিরবে শান্তির পথ?
ইউরোপের ভণ্ডামি নিয়ে ক্ষোভ (Zelenskyy On US Tariff)
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় দেশগুলির সমালোচনা করে বলেন, ‘‘যুদ্ধ চলার সময়ে এখনও যারা রাশিয়ার শক্তি কিনছে, তাদের আচরণ অন্যায্য(Zelenskyy On US Tariff)।’’ তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একজোট হয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে।
মার্কিন কৌশলে পরিবর্তন (Zelenskyy On US Tariff)
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ঘোষণা করেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘‘দ্বিতীয় দফা’’ নিষেধাজ্ঞার। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প সাফ বলেন, ‘‘হ্যাঁ, রাশিয়ার তেল কিনছে এমন দেশগুলিকেও আমরা লক্ষ্যবস্তু করব।’’ এর আগের মাসেই আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ব্যর্থ হয়, কোনও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। ফলে এবার অর্থনৈতিক চাপই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকা একসঙ্গে শুল্ক বাড়ায়, রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে।’’
আরও পড়ুন : Afghanistan Earthquake : আফগানিস্তানের ভূমিকম্পের উদ্ধার কার্যে নারীদের সঙ্গে বৈষম্য!
ভারতের উপর মার্কিন শুল্কের বোঝা(Zelenskyy On US Tariff)
গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রপ্তানির উপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক বসিয়েছে, ফলে শুল্কহার বেড়ে হয়েছে ৫০ শতাংশ। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভারত রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে অর্থ জোগাচ্ছে। যদিও ভারত এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে তারা ‘‘সেরা চুক্তি’’ করবে এবং নিজেদের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য তেল কিনতে থাকবে।
রাশিয়া–চিনের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি(Zelenskyy On US Tariff)
ভারতের পাশাপাশি চীনও রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। সম্প্রতি বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ বৈঠকে মস্কো ঘোষণা করেছে, তারা চীনে গ্যাস রপ্তানি আরও বাড়াবে। এতে রাশিয়ার অর্থনীতির বিকল্প বাজার তৈরি হচ্ছে।
একদিকে পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ভারত ও চীন জাতীয় স্বার্থে মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য জারি রেখেছে। জেলেনস্কির শুল্ক-প্রস্তাব বৈশ্বিক চাপ বাড়ালেও বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশীয় শক্তিগুলির পারস্পরিক কূটনৈতিক সমঝোতার উপর।


