Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: অ্যান্টার্কটিকার অন্ধকার শীতল প্রান্তর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভেসে চলা (Iceberg A23a) পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বরফখণ্ড A23a প্রায় শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রায় চার দশক আগে, অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে, এই বিশাল আইসবার্গটি অ্যান্টার্কটিকার ফিলশনার-রন বরফচাঁই থেকে আলাদা হয়েছিল। তখন থেকেই এটি সমুদ্রপথে ধীরে ধীরে ভেসে চলেছে। আজ সেটি আটলান্টিক সাগরে, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে এসে পৌঁছেছে এবং বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন—আর এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিশাল বরফখণ্ডটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।

আকার ও গুরুত্ব (Iceberg A23a)
A23a-র বিস্তৃতি লন্ডন শহরের চেয়েও বেশি। প্রায় ৪০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট এই বরফখণ্ড ছিল সমুদ্রবিজ্ঞান ও জলবায়ুবিদ্যার কাছে এক অনন্য গবেষণার ক্ষেত্র। এতদিন পর্যন্ত এটি স্থিতিশীল ছিল বলে সমুদ্রজলের স্তর বৃদ্ধিতে সরাসরি বড় ভূমিকা রাখেনি। কিন্তু এ ধরনের বিশাল বরফখণ্ডের ভাঙন ও গলন যে এক গুরুতর সংকেত—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা একমত।

উষ্ণায়নের সতর্কবার্তা (Iceberg A23a)
জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা IPCC-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে ৩.৭ মিলিমিটার হারে বাড়ছে। আইসবার্গ গলে যাওয়া এবং হিমবাহ সঙ্কোচনের মতো প্রক্রিয়া যদি একই হারে চলতে থাকে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অন্তত ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সরাসরি অভিঘাত পড়বে উপকূলবর্তী শহর ও দ্বীপাঞ্চলে। মুম্বই, চেন্নাই কিংবা সুন্দরবনের মতো জনবহুল এলাকাগুলিতে বন্যা, ভূমিক্ষয়, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদি সমস্যাই প্রকট হবে।

ভারতের প্রেক্ষাপট (Iceberg A23a)
ভারতের সমুদ্র উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার। এত বিপুল উপকূলবর্তী অঞ্চল নিয়ে বসবাসকারী দেশের জন্য সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এক গভীর সংকটের বার্তা। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনঘন বৃষ্টিপাতের ধারা ইতিমধ্যেই বদলে যাচ্ছে। অস্বাভাবিক বর্ষণ, দীর্ঘস্থায়ী খরা বা আকস্মিক বন্যা—সবই উষ্ণায়নের সরাসরি ফল। সাম্প্রতিক পঞ্জাবের বিধ্বংসী বন্যা গত আটাশ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন। শুধু অ্যান্টার্কটিকা নয়, হিমালয়ের হিমবাহগুলোতেও দ্রুত গলনের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, যা গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধুর মতো নদীব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।

আটকানো যাবে কি? (Iceberg A23a)
প্রশ্ন উঠছে, এই বিপর্যয় রোখা সম্ভব কি? বৈজ্ঞানিক মহলের বড় অংশ বলছেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামো ও কার্বন নির্ভর প্রযুক্তি থেকে দ্রুত সরে আসা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। বাজারে নানা তত্ত্ব ঘুরে বেড়ালেও, যেমন—সমুদ্রের উপর বরফ তৈরির কৃত্রিম প্রকল্প বা বৃহৎ কার্বন শোষণ ব্যবস্থা—সবই প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতায় আটকে আছে। বাস্তবিক অর্থে এই পরিবর্তন পুরোপুরি থামানো কঠিন।
আরও পড়ুন: Durga Puja: প্রেমের প্রথম পুজো হোক স্মরণীয়! সঙ্গীর মন জিততে মেনে চলুন এই ৬ টিপস
নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা! (Iceberg A23a)
A23a-র মতো বিশাল আইসবার্গের গলন ও ভাঙন নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর অন্তর্নিহিত বার্তা স্পষ্ট পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে এবং সেই তাপ বাড়িয়ে তুলছে সমুদ্রের রূপ। আজ যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, আগামী কয়েক দশকে ভারতের মতো দেশগুলিকে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আইসবার্গ ভেঙে সমুদ্রে মিলিয়ে যাওয়া হয়তো সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতির কারণ নয়, কিন্তু এটি সেই ঘন্টাধ্বনি যা বিশ্ব উষ্ণায়নের তীব্রতা বোঝায় এবং সতর্ক করে দেয়, সময় খুব বেশি নেই।



