Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তিন বছর আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) হাইকোর্টের দেওয়া ‘রক্ষা কবচ’ প্রত্যাহার করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর। সেইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলাও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত। এছাড়া মানিকতলা মামলা-সহ মোট পাঁচটি মামলায় সিবিআই এবং রাজ্যের যুগ্ম সিট (SIT) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিটে রাজ্য পুলিশের তরফে যতজন প্রতিনিধি থাকবেন, সিবিআই-এর তরফেও ততজনই প্রতিনিধি থাকবেন বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত।
শুভেন্দুর আইনজীবীদের কোনও বক্তব্য থাকলে তা সোমবারের মধ্যে আদালতে লিখিত আকারে জানাতেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আদালতের এই রায় শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সহ রাজ্য বিজেপিকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে এতদিনে যে অসংখ্য অভিযোগ জমা হয়েছে, হাইকোর্ট তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়ায়, এবার রাজ্য সেগুলো নিয়ে তৎপর হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মিথ্যা মামলার অভিযোগে রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)
রাজ্য উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা শেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চ শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে রক্ষা কবচ দিয়েছিলেন। রাজ্য পুলিশের দায়ের করা ২৬টি এফআইআরেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁকে গ্ৰেফতার সহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি মান্থা। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর রক্ষাকবচ বহাল থাকে। ফলে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উঠলেও আদালতের অনুমতি না থাকায় এফআইআর দায়ের করতে পারেনি পুলিশ।
আরও পড়ুন: Explosion on the Railway Line: রেললাইনে বিস্ফোরণ! ফের কি জেগে উঠছে পুরনো আতঙ্ক?
সম্প্রতি ওই রক্ষাকবচের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা আবেদন করে রাজ্য। শুক্রবার সেই মামলাতেই শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ‘রক্ষাকবচ’ প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। ফলে আর কোনও ঢাল রইল না বিরোধী দলনেতার। যার ফলে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে আর আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হবে না রাজ্যের।আদালতের এই নির্দেশে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে তাঁর অস্বস্তি বাড়ল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে, বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি এফআইআরও এদিন বাতিল করে দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত।
শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রক্ষাকবচ খারিজ করার নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, শুভেন্দু অধিকারীকে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তা এই আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ ছিল। কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকতে পারে না। তাই রক্ষা কবচ প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানান বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
খারিজ শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫ মামলা
রক্ষাকবচ প্রত্যাহার হলেও শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫ টি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত। এছাড়া মানিকতলা মামলা-সহ মোট পাঁচটি মামলায় সিবিআই এবং রাজ্যের যুগ্ম সিট (SIT) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিটে রাজ্য পুলিশের তরফে যতজন প্রতিনিধি থাকবেন, সিবিআই-এর তরফেও ততজনই প্রতিনিধি থাকবেন বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত। তবে শুভেন্দুর আইনজীবীদের কোনও বক্তব্য থাকলে তা সোমবারের মধ্যে আদালতে লিখিত আকারে জানাতেও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
আরও পড়ুন:Chinchura: গঙ্গার পাড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ ভোটার তালিকা! কে ফেলল এই নথি?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আদালতের এই রায় শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপিকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে এতদিনে যে অসংখ্য অভিযোগ জমা হয়েছে, হাইকোর্ট তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়ায়, এবার রাজ্য সেগুলো নিয়ে তৎপর হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


