Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য অর্থ বরাদ্দ না করায় রাজ্যের আদালতগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে (State Government Grants)। সেই মামলায় সোমবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কে রাজ্যের অ্যাকাউন্ট সিজ করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে আগামী ১০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থ সচিবকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।
বকেয়া প্রাপ্য নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ বিচারপতির (State Government Grants)
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য অর্থ বরাদ্দ না করায় রাজ্যের আদালতগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। ৩৬টি প্রকল্পের কাজ আটকে। গত ৩ বছরে বিএসএনএল-এর ইন্টারনেট বিল মেটানো হয়নি। প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। বারবার এই অর্থ চাওয়া হলেও মুখ্যসচিব ও অর্থ সচিবের থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। এই নিয়ে আগেই মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার সেই মামলাতেই রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: Nabanna: SIR জল্পনার মাঝেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল, বদলি ১৭ IAS সহ মোট ৬৪ আধিকারিক
এদিন শুনানিতে বিচারপতি বসাক রাজ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে ইন্টারনেট ও ফোনের বিল বকেয়া রয়েছে। রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে? বিল না দেওয়ার কারণে বিএসএনএল যদি পরিষেবা বন্ধ করে দেয়, তখন কী হবে? তিন বছর যথেষ্ট সময়। আপনারা বিল মেটানোর প্রয়োজন মনে করেননি। রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঠিক ভাবে বেতন দিচ্ছেন না (State Government Grants)। হাইকোর্টের কাজে অর্থ বরাদ্দ কি প্রশাসনিক কাজের মধ্যে পড়ে না? গত তিন বছর যথেষ্ট সময়। বিল দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। দেখে মনে হচ্ছে শামুক আর কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে।’
রাজ্যের অ্যাকাউন্ট সিজ করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি
এরপরই বিচারপতি বসাক রাজ্যের কাছে জানতে চান রাজ্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কোন ব্যাঙ্ক রয়েছে। তার উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানান রিজার্ভ ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তখন বিচারপতি বলেন, ‘আমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে বলব যেন রাজ্যের কোনও টাকা না ছাড়ে। আদালতের অনুমতি ছাড়া যেন টাকা ছাড়া না হয়। এত পরিমান বিল বাকি থাকায় বিএসএনএল যদি পরিষেবা বন্ধ করে দেয় তাহলে আর কিছু বলার থাকবে না। হাইকোর্টেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে জেলা আদালত গুলোর কি অবস্থা!’
এরপরই শুনানি চলাকালীন আদালতে উপস্থিত থাকা রাজ্যের অর্থ দফতরের আধিকারিকের থেকে রাজ্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চান বিচারপতি বসাক। তার উত্তরে সেই আধিকারিক জানান রাজ্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর তাঁর জানা নেই। তার উত্তরই বিচারপতি বসাক বলেন, ‘আমরা বসে থাকব। জেনে এখনই বলুন। মুখ্যসচিবকে বলুন অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে। আমরা সিজ করার নির্দেশ দেব।’
আরও পড়ুন: Cafe: ক্যাফেতে অবৈধভাবে হুক্কা পার্লার! বাড়িওয়ালা-ক্যাফে মালিকের বচসায় উত্তেজনা
তখন রাজ্য অর্থ দফতরের আধিকারিক আদালতকে বলেন, দু’দিনের মধ্যে বকেয়া টাকার (State Government Grants) অর্ধেক মিটিয়ে দেওয়া হবে। তা শুনেই বিচারপতি বসাক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘দু’দিন কেন লাগবে? এখন তো অনলাইনে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাঠানো যায়!’ তখন আধিকারিক জানান, রাজ্য সরকারের ছুটি রয়েছে। তা শুনে চরম ক্ষোভপ্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, ‘কী! আজ ছুটি? ইন্টারনেট পরিষেবাও কি ছুটি? এই আদালত কি আজ ছুটি? যদি আজকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কি হবে?’
এদিন রাজ্যের আইনজীবী শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। তখন বিচারপতি বসাক বলেন, ‘আপনাদের এক মাসের মধ্যে আমরা মিটিং করতে বলেছিলাম। তার কোনও অগ্ৰগতি হয়নি। অথচ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে রয়েছেন মুখ্যসচিব।’
মুখ্য সচিব ও অর্থসচিবকে বৈঠক করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতেও নির্দেশ
রাজ্যের আইনজীবী আদালতকে জানান, ‘আপাতত ৬০ লক্ষ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এবং আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া বাকি টাকা (State Government Grants) মিটিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এই মামলায় সওয়াল করবেন। তাই দয়া করে একটু সময় দেওয়া হোক। বিলের ২.৯ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।’ তা শুনে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি বসাক বলেন, ‘আমরা বাকরুদ্ধ। আর কিছু বলার নেই। সেই টাকা কি আদৌ আদালতের হাতে এসেছে!’ তারপরই বিচারপতি রেমাংশু ভাষার জানান এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১০ নভেম্বর। তার মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে আগামী ২৯ অক্টোবর এবং ৬ নভেম্বর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিব কে এবিষয়ে আবার বৈঠক করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতেও রাজ্যকে নির্দেশ দেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক।


