Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রবিবার দক্ষিণ চিন সাগরে এক নাটকীয় ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ও একটি ফাইটার জেট ভেঙে পড়ে (Fighter Jet Crash)। সৌভাগ্যবশত, দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম এশিয়া সফরের সময় ঘটায় তা আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার সময় ও বিবরণ (Fighter Jet Crashes)
মার্কিন নৌবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ MH-60R সি-হক হেলিকপ্টারটি রুটিন অভিযানের সময় ভেঙে পড়ে। দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কপ্টারে থাকা তিনজন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করে। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে F/A-18F সুপার হর্নেট (Super Hornet) নামের একটি ফাইটার জেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নৌবাহিনী জানায়, জেটটির দুইজন পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন এবং তাঁদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত শুরু (Fighter Jet Crashes)
দুটি দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা আবহাওয়াজনিত সমস্যাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ চিন সাগরের কূটনৈতিক গুরুত্ব (Fighter Jet Crashes)
দক্ষিণ চিন সাগর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। চীন এই সাগরের বেশিরভাগ অংশকে নিজেদের বলে দাবি করে, যদিও ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানও এই জলসীমায় অধিকার দাবি করে আসছে। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক আদালত বেজিংয়ের দাবিকে অগ্রাহ্য করলেও, চীন সেই রায় মানতে অস্বীকার করেছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে ওই এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে ‘Freedom of Navigation Operations (FONOPs)’-এর মাধ্যমে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence Job: ফ্রেশারদের জন্য কি ফের খুলছে আইটি সংস্থার দরজা?

ট্রাম্পের এশিয়া সফর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম এশিয়া সফরে রয়েছেন। সফরের অংশ হিসেবে তাঁর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ট্যারিফ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ চিন সাগরে এই দুর্ঘটনা এমন এক সময় ঘটল যখন ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে ঘটনাটি কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



