Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার গভীর রাতে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তুরস্কের বালিকেসরি প্রদেশের সিনদিরগি শহর (Earthquake)। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.১। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংস্থা AFAD জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটির প্রায় ৫.৯৯ কিলোমিটার গভীরে। রাতের নীরবতা ভেঙে মুহূর্তের মধ্যে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় ছুটে যান।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, চলছে উদ্ধারকাজ (Earthquake)
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিনদিরগি ছাড়াও ইস্তানবুল ও পর্যটন শহর ইজমিরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি-র খবর অনুযায়ী, কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ভেঙে পড়েছে। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, “তিনটি বাড়ি ও একটি দোকান থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরই সেগুলি ভেঙে পড়ে। সৌভাগ্যবশত, কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।”

তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প (Earthquake)
এই বছরই ১০ অগস্ট একই স্থানে সমপরিমাণ (৬.১ মাত্রার) ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও প্রায় বারো জন আহত হয়েছিলেন। এরপরও সিনদিরগি এলাকায় ছোটখাটো কম্পন বহুবার অনুভূত হয়েছে। ফলে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

২০২৩ সালের ভূমিকম্প (Earthquake)
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তুরস্কের ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ভূমিকম্প ঘটে। ৭.৮ মাত্রার সেই কম্পনে ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। রাজধানী আঙ্কারা সহ একাধিক শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। প্রতিবেশী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলও সেই বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে পারেনি প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেখানেও।
আরও পড়ুন: Murshidabad Cyber Crime: ভুয়ো ভিডিও-ছবিতে বিতর্ক, হাজারো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে তালা!
ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা কতটা?
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম ভূকম্পপ্রবণ অঞ্চল, কারণ দেশটি “নর্থ আনাতোলিয়ান ফল্ট লাইন”-এর উপর অবস্থিত। এই ফল্টলাইনে নিয়মিত চাপ তৈরি হওয়ায় বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সব সময়ই থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক কম্পনটি সেই ফল্টলাইনের সক্রিয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।



