Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজবাড়ির দেওয়া মাত্র ১৫ টাকায় শুরু হয় এক অনন্য পুজো (Jagaddhatri Puja)। কৃষ্ণনগরের মালোপাড়ায় আয়োজিত জলেশ্বরী মায়ের জগদ্ধাত্রী পুজো আজও ধরে রেখেছে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা।

রাজবাড়ির আশীর্বাদে শুরু পুজো (Jagaddhatri Puja)
মালোপাড়ার এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নাম। বলা হয়, এক সময় রাজবাড়ির রাজরাজেশ্বরী প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় মালো সমাজের জেলেরা সহায়তা করতেন। তাঁদের ইচ্ছে ছিল নিজেরা জগদ্ধাত্রী পুজো করবেন। রাজাও সেই সাধ মেনে নেন, আর পুজোর খরচের জন্য দেন ১৫ টাকা। সেই সময় ১৫ টাকা ছিল বিরাট অঙ্কের অর্থ। আজও সেই প্রথা অটুট। রাজবাড়ি থেকে প্রতিমা তৈরির কাঠ ও সেই ঐতিহ্যবাহী ১৫ টাকা এসে পৌঁছয় মালোপাড়ার বারোয়ারি পুজো কমিটির হাতে। টাকা না এলে পুজো শুরু হয় না এই প্রথা আজও অবিচল।

মাছসহ মহাভোগের অনন্য রীতি (Jagaddhatri Puja)
এই পুজোর বিশেষত্ব হল দেবীর মহাভোগে মাছের উপস্থিতি। জয়রামবাটিতে সারদা মায়ের মা শ্যামা সুন্দরীদেবীর প্রচলিত প্রথা অনুযায়ীই মালোপাড়ার পুজোও চলে। পুজো কমিটির কর্তা কৃষ্ণ হালদার বলেন, “জয়রামবাটিতে যেমন জগদ্ধাত্রী দেবীকে মাছ দিয়ে পুজো দেওয়া হয়, আমরাও সেই রীতিই মানি। ইলিশ, রুই বা কাতলা যা-ই হোক না কেন, দেবীর ভোগে মাছ থাকবেই।” মহাভোগে অন্ন, পরমান্ন, খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচভাজা, কদবেলের চাটনি এবং মাছ থাকে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহাভোগ সম্পূর্ণ হলে তবেই দেবীর পূজা সম্পন্ন হয়।
জলেশ্বরী মায়ের নামের রহস্য (Jagaddhatri Puja)
মালোপাড়ার প্রতিমার অপর নাম জলেশ্বরী মা। পুজোর আগের দিন রাতে অষ্টমীর অধিবাসের সময় মহিলাদের বেশে ছেলেরা “জল সাজার” অনুষ্ঠান করেন। এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে জেলেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি জল, জাল ও মাছধরার দৃশ্য। মৎস্যজীবী সমাজের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে দেবীর আরাধনা মিলেমিশে যায় একাত্মভাবে।

ভাসানের ঐতিহ্য ও মনস্কামনার কাহিনি (Jagaddhatri Puja)
প্রাচীন কালে রাজরাজেশ্বরী প্রতিমাকে জোড়া নৌকার মাঝখানে রেখে মালোরা দেবীকে ভাসানে নিয়ে যেতেন সেই দৃশ্য ছিল এক অনন্য ঐতিহ্য। আজও সেই স্মৃতি অমলিন। ভাসান দেখতে আসে হাজারো মানুষ। পুজোর সময় মনস্কামনা পূর্ণ হলে ভক্তরা ধুনো পোড়ান কয়েকশো কেজি ধুনো জ্বলে ওঠে মণ্ডপে। পুজো মণ্ডপের গ্যাসবাতির আলোয় দেবীমূর্তি যেন আরও দ্যুতিময় হয়ে ওঠে।
একাত্মতায় গড়া পাড়ার পুজো (Jagaddhatri Puja)
মালোপাড়ার পুজো কেবল রাজবাড়ির আশীর্বাদ নয়, এটি মানুষের সম্মিলিত ঐক্যের প্রতীক। এলাকার মানুষই সম্মিলিতভাবে পুজোর আয়োজন করেন। নিয়ম, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে আজও এই পুজো কৃষ্ণনগরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় জগদ্ধাত্রী পুজো হিসেবে স্বীকৃত।
আরও পড়ুন: Jagaddhatri Puja: এই পুজো কি সত্যিই চন্দননগরেই শুরু হয়েছিল? জানা আছে এর উৎস?

ঐতিহ্যের আলোয় আজও উজ্জ্বল মালোপাড়া
দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই পুজো আজও শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক। রাজবাড়ির দেওয়া সেই ১৫ টাকাই যেন আজও বাংলার এক জীবন্ত ইতিহাস যা স্মরণ করিয়ে দেয় ঐতিহ্য, শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসের চিরন্তন সম্পর্ক।



