Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা রক্ষাকালী(Bolla Kali) মন্দিরের বলি নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। কালী মন্দিরে প্রকাশ্যে পশুবলি উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও মতেই দু’টির বেশি ছাগ দেওয়া যাবে না। সাধারণ ভক্তদের মানত রেখে যে বলি দেন, কোনও ভাবেই জনসমক্ষে সেই বলির আয়োজন করা যাবে না। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি ঘেরা জায়গায় সেই বলির আয়োজন করতে হবে।বলি বন্ধ করতে প্রশাসনকেও জনসচেতনতা মূলক প্রচার করতে হবে। প্রশাসন ও মন্দির কমিটিকে প্রতীকী বলির প্রথা পালন করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পশুবলী সমর্থন করে না আদালত(Bolla Kali)
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে পশুবলীকে কোনমতেই সমর্থন করে না আদালত। তাই ভবিষ্যতেও এই বলি বন্ধে পুজোর উদ্যোক্তা, প্রশাসন এবং স্থানীয়দেরই এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি বছর রাস পূর্ণিমার পর দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা রক্ষাকালী(Bolla Kali) মন্দিরের প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি ছাগ বলি হয়। মন্দিরে পশু বলি বন্ধের আবেদন জানিয়ে এক পশুপ্রেমী সংস্থা গত বছর কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। কিন্তু আদালত সেই আবেদনে প্রথমে সাড়া দেয়নি। এই বছরও বলি বন্ধের দাবিতে মামলা হয়।

বলি নিষিদ্ধ করা উচিৎ, দাবি মামলাকারীর আইনজীবীর (Bolla Kali)
শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, পশু বলি প্রথা সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত ‘আবশ্যিক ধর্মীয় চর্চা’ নয়। তাই বলি নিষিদ্ধ করা উচিৎ। পশু বলি ধর্মীয় চর্চা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা প্রয়োজনীয় ধর্মীয় রীতির মধ্যে পড়তে হবে। রাজ্যে পশু বলি বন্ধের জন্য আইন প্রণয়নে অভাব রয়েছে। যদিও মন্দির কতৃপক্ষের দাবি করে, পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন, ১৯৬০-এর ২৮ নম্বর অনুযায়ী ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পশু বলি অনুমোদিত।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro: ভরদুপুরে বন্ধ মেট্রো পরিষেবা, ফের ভোগান্তি যাত্রীদের!
প্রতীকী বলির প্রথা চালুর নির্দেশ(Bolla Kali)
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বলির উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করে বা আদালতের নির্দেশে কার্যকর করে পশু বলি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য মন্দির কমিটি ও প্রশাসনকে আরও বেশি করে জনসচেতনতা মূলক প্রচার করতে হবে। প্রয়োজনে মন্দির কমিটি এবং প্রশাসনের মধ্যে বৈঠকে যে প্রতীকী বলির প্রথা পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা কঠোরভাবে পালন করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: Fire Breaks Out: অফিস টাইমে অফিস পাড়ায় আগুন-আতঙ্ক, ঘটনাস্থলে দমকলের ১০ ইঞ্জিন


