Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত শুক্রবার ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনের পরও থামেনি ভূমিকম্পের ধাক্কা (Bangladesh Earthquake)। শনিবারেও বাংলাদেশ নতুন করে কেঁপে ওঠে। ঠিক এক সপ্তাহ পেরোতেই ফের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে নড়ে উঠে নরসিংদীর ঘোরাশাল এলাকা। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.৬। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত শুক্রবারের ভয়ংকর ভূমিকম্পের উৎসও ছিল ঘোরাশাল অঞ্চল যা এখন ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় বলে চিহ্নিত হচ্ছে।

দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলে (Bangladesh Earthquake)
শুক্রবারের শক্তিশালী কম্পনে চাঁদপুর, নীলফামারী, সীতাকুণ্ড, সিরাজগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, পটুয়াখালি, বগুড়া, বরিশাল—সহ বহু জেলা কেঁপে ওঠে। সকালে ও দুপুরে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়, রাস্তায় আতঙ্কে মানুষের ভিড় অনেক জায়গায় ঘরের অংশ ভেঙে পড়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে ওঠে ধ্বংসস্তূপের ছবি, সবচেয়ে মর্মান্তিক, মৃত্যু হয়েছে অন্তত তিনজনের। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র রাফিউল ইসলাম-এর মৃত্যু দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলে।
অফিস থেকে রাস্তায় নেমে আসেন কর্মীরা (Bangladesh Earthquake)
বাংলাদেশের কম্পনের প্রায় কাছাকাছি সময়েই শুক্রবার সকাল ১০টা ৮ মিনিটে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা কেঁপে ওঠে।
বহুতল আবাসন, সল্টলেকের অফিসপাড়া সব জায়গাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে তড়িঘড়ি ভবন খালি করে রাস্তায় নেমে আসেন। পূর্ব ভারতের ভূতাত্ত্বিক কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশে উৎসস্থল হলে কলকাতা ও তার আশপাশে কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়, এবং সাম্প্রতিক কম্পন সেটাই প্রমাণ করল।

ইন্দোনেশিয়ায় ধারাবাহিক ভূকম্পন (Bangladesh Earthquake)
গত ২০ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সেরাম অঞ্চলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এ খবর জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ১৩৬ কিলোমিটার গভীরে, যা তুলনামূলকভাবে গভীর ভূমিকম্প। গভীর হলেও, কম্পন স্পষ্ট অনুভূত হয় সেরাম ও আশপাশে। এর আগে ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে সেমেরু আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হয়। ফলে ভূতত্ত্ববিদদের মতে, “ম্যাগমাটিক চাপ ও টেকটোনিক চাপ একসঙ্গে সক্রিয় হলে এ ধরনের ধারাবাহিক কম্পন দেখা যায়।” তবে স্বস্তির খবর কোনও সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?

আবারও ৫.৯ মাত্রার ধাক্কা
ঠিক একই দিনে ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানায়, মালুকুর রাজধানী কোট্টা আম্বনের কাছে আরও ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এটিও মাঝারি গভীরতার বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। দুটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু কাছাকাছি হওয়ায় ভূতাত্ত্বিকরা এখন অঞ্চলটির চাপ-রিলিজ প্যাটার্ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সক্রিয়তা বাংলাদেশ, পূর্ব ভারত, মায়ানমার, এই অঞ্চল ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষস্থল। এখানে চাপ জমলেই ধারাবাহিক ভূমিকম্প দেখা যায়। আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা, ইন্দোনেশিয়া মূলত ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে ভূকম্পনের সম্পর্ক গভীর। অগভীর ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বেশি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কম্পনগুলি ছিল অগভীর, ফলে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে।



