Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজস্থানের হনুমানগড় জেলার রাঠি খেদা গ্রাম গত কয়েক দিন ধরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা ধারণ করেছে (Rajasthan Police)। প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ ইথানল প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে কৃষকদের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। গ্রামের পরিবেশ, জল ও কৃষিজমির ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কাই এই বিক্ষোভের মূল কারণ। কৃষকদের মতে, প্ল্যান্ট চালু হলে দূষণ এতটাই বাড়বে যে ভবিষ্যতে জীবনযাত্রা ও চাষবাস দুটোই অসম্ভব হয়ে উঠবে।

দূষণ-আশঙ্কা থেকে প্রতিবাদের সূত্রপাত (Rajasthan Police)
ইথানল প্ল্যান্ট নির্মাণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তাঁদের দাবি ইথানল প্রস্তুতের ফলে যে বর্জ্য জল ও রাসায়নিক নির্গত হবে, তা ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে দূষিত করবে। ফলে কৃষিক্ষেত্রের ফসলের মান নষ্ট হবে, জমির উর্বরতা কমে যাবে এবং গ্রামাঞ্চলের পরিবেশ চরম সংকটে পড়বে। এই আশঙ্কা থেকেই তাঁরা আগেই প্ল্যান্ট বিরোধী আন্দোলন ঘোষণা করেছিলেন।

বিক্ষোভের দিনে উত্তেজনার বিস্ফোরণ (Rajasthan Police)
বুধবার সকাল থেকে কয়েক হাজার কৃষক মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ট্র্যাক্টর নিয়ে ইথানল প্ল্যান্টের নির্মীয়মাণ প্রাচীর ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, কৃষকরা পাথর ছোড়েন এবং বেশ কিছু সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
বিধায়ক হাসপাতালে ভর্তি (Rajasthan Police)
দুই পক্ষের সংঘর্ষে বহু কৃষক ও পুলিশকর্মী আহত হন। সবচেয়ে গুরুতরভাবে জখম হন কংগ্রেস বিধায়ক অভিমন্যু পুনিয়া। তাঁকে তড়িঘড়ি করে হনুমানগড় জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর আঘাত গুরুতর হলেও চিকিৎসকেরা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান (Rajasthan Police)
উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া রুখতে জেলা প্রশাসন দ্রুত ১৪৪ ধারা জারি করে। রাঠি খেদা ও তিব্বি মহকুমা–সহ আশেপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েক দিনের জন্য বন্ধ থাকে স্কুল-কলেজ, বাজার ও দোকানপাট। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। প্রশাসনের দাবি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: Underwater Robot Drones: নদী সেতুর নিরাপত্তায় রেলের নতুন উদ্যোগ
সমাধানের পথ কোন দিকে?
বর্তমানে রাঠি খেদার পরিস্থিতি টানটান। প্রশাসন বলছে, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেই সমাধান খোঁজা হবে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রথমে প্রকল্প সম্পর্কিত সমস্ত পরিবেশগত নথি প্রকাশ এবং ক্ষতির দায়বদ্ধতার নিশ্চয়তা চান।
রাজনৈতিক মহলও বিষয়টি নিয়ে সরগরম, কারণ সংঘর্ষে একজন বিধায়ক জখম হওয়াতে ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।



