Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Mamata on SIR)-এর প্রথম খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই খসড়া তালিকার সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে নাম বাদ পড়ার পৃথক নথি, যেখানে দেখা যাচ্ছে গোটা রাজ্য জুড়ে প্রায় ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ভোটার তালিকার এই বিপুল সংশোধন সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সীমা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এসআইআর প্রক্রিয়া (Mamata on SIR)
এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও হালনাগাদ করা। এর মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকলে তা সংশোধন করা এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া নাগরিকদের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া। নির্বাচন কমিশনের দাবি, একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই প্রক্রিয়া অপরিহার্য। তবে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে এই প্রক্রিয়ায় অসংখ্য প্রকৃত ও সক্রিয় ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল।
সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র (Mamata on SIR)
এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। কারণ, এটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র। আপডেট হওয়া তালিকা অনুযায়ী ভবানীপুরে মোট ৪৪ হাজার ৭৭০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ শহুরে কেন্দ্রের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় সংখ্যা বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বুথেও বাদ পড়েছে নাম (Mamata on SIR)
ভবানীপুরের মধ্যেও বিশেষ নজর কেড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথ। মিত্র ইন্সটিউশন, বুথ নম্বর ২৬০ এই বুথে মোট ১২৭ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তালিকা অনুযায়ী, এঁদের মধ্যে ১৩ জন মৃত, আর বাকিদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি অথবা তাঁরা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথে এত সংখ্যক নাম বাদ পড়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জরুরি বৈঠক ও রাজনৈতিক বার্তা (Mamata on SIR)
খসড়া তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে নিজের বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন। এই বৈঠকে ভবানীপুরের কাউন্সিলর ও বিএলএ–২দের উপস্থিত থাকার কথা। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বুথভিত্তিকভাবে নাম বাদ পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম কীভাবে শুনানির মাধ্যমে ফের তালিকাভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশ দেওয়া।
ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ (Mamata on SIR)
ভবানীপুর রাজনৈতিকভাবে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। যদিও গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভবানীপুরের মোট আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে ছিল। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া ভবিষ্যতের নির্বাচনী অঙ্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
আরও পড়ুন: Pollution: শীতের ঘাটতিতে বাড়ছে দূষণ, ভোরের বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ কলকাতায়
শুনানি ও চূড়ান্ত তালিকার দিকে নজর
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানির সুযোগ থাকবে। এই শুনানির পর সংশোধিত ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখন রাজনৈতিক দলগুলি সেই শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। কতজন প্রকৃত ভোটার তাঁদের নাম ফেরাতে পারবেন এবং সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।



