Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বায়নের এই যুগে যখন সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত সহজ থেকে সহজতর হওয়ার কথা (Donald Trump), ঠিক তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের কড়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার নতুন তালিকা (Donald Trump)
হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এবার সিরিয়া-সহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার পাঁচটি দেশ সিরিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। আগামী পয়লা জানুয়ারি থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের যুক্তি ও নিরাপত্তা ভাবনা (Donald Trump)
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং নাগরিক যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, সম্ভাব্য হুমকি রুখতেই আগাম এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আংশিক নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতা (Donald Trump)
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দেশের উপর আংশিক ভ্রমণ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একাধিক দেশ যেমন সেনেগাল, গাম্বিয়া, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকদের ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কড়াকড়ির মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে বহু মানুষের।
আরও পড়ুন: Pollution: শীতের ঘাটতিতে বাড়ছে দূষণ, ভোরের বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ কলকাতায়
২০১৭ সালের ‘মুসলিম ব্যান’
এই সিদ্ধান্ত অনেকের মনেই ফিরিয়ে আনছে ২০১৭ সালের বিতর্কিত ‘মুসলিম ব্যান’-এর স্মৃতি। তখন সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। বিমানবন্দরে আটক, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ সব মিলিয়ে সেই সিদ্ধান্ত ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে আজ স্পষ্টভাবে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নিরীহ সাধারণ মানুষ, শরণার্থী ও শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন। প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তার নামে সামগ্রিক জাতিকে দোষী সাব্যস্ত করা কতটা ন্যায্য?



