Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের (Pakistan) শর্তে কার্যত জেরবার পাকিস্তান। ঋণের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতির চাপে পড়ে এমন এক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। আইএমএফের নির্দেশ মেনে কন্ডোম-সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীতে ১৮ শতাংশ জিএসটি বসানো হয়েছে। এই কর বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তানে কন্ডোমের দাম এতটাই বেড়েছে যে তা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে অসন্তোষ, এমনকি জনবিস্ফোরণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি (Pakistan)
পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি বর্তমানে অনেকটাই আইএমএফের (Pakistan) শর্তনির্ভর। আর্থিক সহায়তা পেতে গিয়ে কর আদায় বাড়ানোর কড়া নির্দেশ মানতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। সেই তালিকায় পড়েছে কন্ডোম, স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং শিশুদের ডাইপারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যও। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত এই সামগ্রীগুলির উপর কর বসানোয় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে জিএসটি কমানোর প্রস্তাব নিয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ হয়েছিল শাহবাজ সরকার। তবে সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
মাঝপথে কর কাঠামো বদলানো যাবে না (Pakistan)
আইএমএফ জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের মাঝপথে কর কাঠামো বদলানো যাবে না। আগামী অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ সালের বাজেটেই এ বিষয়ে নতুন করে ভাবা যেতে পারে। তাদের যুক্তি, কন্ডোমের উপর থেকে কর তুলে নিলে সরকারের কয়েকশো কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে, যা বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবস্থানেই আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পাকিস্তান সরকার।

আরও পড়ুন: Baba Vanga: ২০২৬ হতে পারে ভয়ঙ্কর! কী বলছেন বাবা ভাঙ্গা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর। বর্তমানে পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ২.৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি বছর প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে দেশের জনসংখ্যায়। এমনিতেই কর্মসংস্থান ও রোজগারের সুযোগ সীমিত, তার উপর অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অভিযোগ উঠছে, কন্ডোমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ সুরক্ষা ছাড়াই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মহারে।


