Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় রাজনীতিতে নামের ভুল নতুন নয় (Amit Shah)। কিন্তু যখন সেই ভুল জড়িয়ে পড়ে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে, তখন তা আর নিছক ‘স্লিপ অফ টাং’ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির জন্ম দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যিনি কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বিপ্লবী শচীন্দ্রনাথ সান্যালের নাম বলতে গিয়ে বলে ফেললেন ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’। এই মন্তব্যের পর থেকেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

কী বলেছিলেন অমিত শাহ? (Amit Shah)
মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অমিত শাহ একের পর এক বিপ্লবী ও নেতার নাম করেন। সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, বাঘা যতীনের নামের পর তিনি বলে বসেন ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’। এই নাম উচ্চারণের মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অফিশিয়াল এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে সেই ভিডিও পোস্ট করে তীব্র কটাক্ষ শুরু করে।
শচীন্দ্রনাথ সান্যাল কে ? (Amit Shah)
শচীন্দ্রনাথ সান্যাল ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অগ্রগণ্য বিপ্লবী চরিত্র। ১৮৯৩ সালে বেনারসে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী কলকাতায় থাকাকালীন অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ছিলেন হিন্দুস্থান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদের মতো বিপ্লবীদের আদর্শিক পথপ্রদর্শক। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা শুধু সাহসিকতার নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বেরও উদাহরণ। এমন একজন বিপ্লবীর নাম ভুল করে বলা অনেকের কাছেই শুধু ভাষাগত ত্রুটি নয়, বরং ঐতিহাসিক অসচেতনতার প্রতীক।

‘এটা শুধু ভুল নয়, অপমান’ (Amit Shah)
ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়, “রবীন্দ্রনাথ সান্যাল? না অমিত শাহ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শচীন্দ্রনাথ সান্যাল। দু’জন আলাদা মানুষ, দু’জন আলাদা মনীষী।” এরপর আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল লেখে, বিজেপি নেতৃত্ব বাংলা সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে ন্যূনতম হোমওয়ার্ক না করেই বাংলায় রাজনীতি করতে আসে। তাঁদের মতে, এটা শুধু নামের ভুল নয় এটা বাংলার মনীষীদের প্রতি অসম্মান। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস বোঝেন না, তাঁরাই বাংলাকে শাসন করার স্বপ্ন দেখছেন।”

‘স্লিপ অফ টাং নিয়ে রাজনীতি’ (Amit Shah)
তৃণমূলের এই আক্রমণের জবাবে বিজেপির তরফে রাহুল সিনহা বলেন, “একটি স্লিপ অফ টাং নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। তৃণমূলের নেতাদেরও বহুবার এ রকম ভুল হয়। আমরা তা নিয়ে রাজনীতি করি না। আসলে তৃণমূলের কাছে এখন রাজনৈতিক ইস্যুর ঘাটতি রয়েছে।” বিজেপির বক্তব্য, এই বিষয়টিকে অযথা বড় করে দেখানো হচ্ছে এবং এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কুৎসার অংশ।
পুরনো ক্ষত, নতুন বিতর্ক (Amit Shah)
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। সংসদে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করার পর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের আপত্তিতে ক্ষমা চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে বিরোধীদের দাবি, বিজেপি নেতৃত্ব বারবার বাংলা ও বাঙালি মনীষীদের ক্ষেত্রে এমন ভুল করছেন, যা শুধুই কাকতালীয় নয়।
আরও পড়ুন: Kolkata : বর্ষবরণে মাতোয়ারা শহর কলকাতা, উৎসবের আনন্দে নিরাপত্তার কড়া বলয়
নামের ভুলের রাজনীতি
এই বিতর্ক এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে, শীর্ষ নেতৃত্বের মুখ থেকে উচ্চারিত একটি নাম কি নিছক শব্দ, নাকি তা ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব? বাংলায় রাজনীতি করতে এসে যদি বারবার বাঙালি মনীষীদের নাম, পরিচয় বা অবদান নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই আবেগে আঘাত করে। বিশেষত এমন রাজ্যে, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।



