Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন বছরের প্রথম দিনেই দলের প্রতিষ্ঠা দিবস তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শুধুই একটি সাংগঠনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং আত্মসমালোচনা, অঙ্গীকার ও ভবিষ্যতের দিশা নির্ধারণের দিন (Mamata Banerjee)। ১৯৯৮ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয় একটি আন্দোলন, একটি আবেগ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
‘মা-মাটি-মানুষ’-ই মূল দর্শন (Mamata Banerjee)
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা ও সংগ্রামের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “মা-মাটি-মানুষের সেবার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল।” মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল দিশা তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে দেশমাতৃকার সম্মান, বাংলার উন্নয়ন এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। তিনি জানান, এই আদর্শ আজও অটুট, এবং দলের প্রতিটি কর্মী-সমর্থক সেই লক্ষ্যে অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ।
অপশক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের ঘোষণা (Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তায় রাজনৈতিক দৃঢ়তার সুরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “কোনও রকম অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়, সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের সংগ্রাম আজীবন চলবে।” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দলের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে, তেমনই ২০২৬ সালের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিতও মিলেছে। তাঁর কথায় উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের প্রতি মানুষের আশীর্বাদ, ভালোবাসা ও দোয়ার কথা যাকে পাথেয় করেই ভবিষ্যতের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা (Mamata Banerjee)
প্রতিষ্ঠা দিবসের বার্তায় দলের সর্বস্তরের কর্মীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগকে “বিনম্র চিত্তে সম্মান ও শ্রদ্ধা” জানান তিনি। বার্তার শেষে তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় আবেগঘন আহ্বান
“জয় হিন্দ! জয় বাংলা!”
ঐক্য ও নবউদ্যমে আগামীর লড়াই (Mamata Banerjee)
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিষ্ঠা দিবসে শুভেচ্ছা বার্তায় কর্মীদের ঐক্য ও প্রস্তুতির বার্তা দেন। তাঁর কথায়, “রাজ্য তথা দেশবাসীর উন্নয়নে মা-মাটি-মানুষ সর্বদা নিয়োজিত।” তিনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের সর্বস্তরের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানান এবং নতুন বছরে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আগামীর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
গ্লানি মুছে যাক, এগিয়ে যাক লড়াই
অভিষেকের বার্তায় রাজনৈতিক দৃঢ়তার পাশাপাশি মানবিকতার সুরও ধরা পড়েছে। তিনি প্রার্থনা করেন, “সকল বিষাদ, গ্লানি মুছে যাক সুখের পরশে।” এই বক্তব্যে নতুন বছরের সূচনায় আশাবাদ, ইতিবাচকতা এবং সংগ্রামের মানসিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত স্পষ্ট।



