Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন কলকাতা প্রস্তুত হচ্ছিল আলোর রোশনাই ও উৎসবের উন্মাদনায় (Park Street), ঠিক সেই সময়েই খাস কলকাতার অভিজাত এলাকা পার্ক স্ট্রিটে ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার গভীর রাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন হলেন এক ৫৩ বছরের প্রৌঢ়। অভিযোগের তীর তাঁর আপন ভাইয়ের দিকেই। নতুন বছরের আগের রাতে এই ভয়াবহ ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল মহানগরের নিরাপত্তা এবং পারিবারিক বিবাদের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে।

তুমুল বচসা থেকে নৃশংস খুন (Park Street)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। মৃত প্রৌঢ়ের নাম নীরজ জয়সওয়াল। দীর্ঘদিন ধরেই ভাইয়ের সঙ্গে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল তাঁর। মঙ্গলবার রাতে সেই বিবাদ চরমে পৌঁছয়। প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা, তারপরেই আচমকা হিংস্র হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, বচসার মাঝেই নীরজের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর ভাই। হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ বসানো হয় দাদার শরীরে। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন নীরজ জয়সওয়াল।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শেষ রক্ষা হয়নি (Park Street)
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা নীরজকে দ্রুত নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান চিকিৎসকদের। ঘটনার পরেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।

ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু (Park Street)
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর মৃতের ছেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ভাই এখনও পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সম্পত্তি সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে তারা আশাবাদী।
ফের পুরনো আতঙ্কে পার্ক স্ট্রিট (Park Street)
এই ঘটনাই প্রথম নয়। চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই পার্ক স্ট্রিটে ঘটে গিয়েছিল আরেকটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। একটি নামী হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক যুবকের পচাগলা দেহ। বক্স খাটের ভিতর থেকে মিলেছিল সেই দেহ, যা দীর্ঘদিন নজরের বাইরে ছিল। পচা গন্ধ পেয়ে হোটেল কর্মীরা ঘর নম্বর ৩০৫-এ ঢুকতেই সামনে আসে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য। পরে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
পরিচয়ের জট ও রহস্যঘেরা মৃত্যু
পুলিশ জানায়, ওই হোটেল ঘরটি বুক করা হয়েছিল ওড়িশার বাসিন্দা বয়ান লালের নামে। তাঁর পরিচয়পত্র দিয়েই ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য যাঁর নামে ঘর বুক করা হয়েছিল, তিনি জীবিত। এই ঘটনায় পরিচয় জালিয়াতি, খুনের উদ্দেশ্য এবং অপরাধীর পরিচয় নিয়ে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর অধরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।



