Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই উত্তরবঙ্গ সফরে বড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস (Mahakal temple) করলেন তিনি। বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক কার্ড’ খেলার পাল্টা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কি ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে? মাটিগাড়ার হাইভোল্টেজ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কী বার্তা দিলেন মমতা?
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দিরের শিলান্যাস মমতার (Mahakal temple)
ঘড়িতে তখন বিকেল ৪টে ৩৫। শঙ্খধ্বনি আর ‘হর হর মহাদেব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠল শিলিগুড়ির মাটিগাড়া। ১৭.৪১ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত বিশাল মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট ঘোষণার মাত্র কয়েক মাস আগে মেগা প্রজেক্টের সূচনা করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উসকে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের স্বার্থে হিন্দুত্বের তাস খেলছেন মমতা। তবে সমালোচনার জবাব মঞ্চ থেকেই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:Abhishek Banerjee: ফের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যু, হেমন্ত সোরেনকে ফোন অভিষেকের…
মন্দিরের নকশা ও পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দির (Mahakal temple) । ২১৬ ফুট উঁচু মহাকাল মূর্তির পাশাপাশি এখানে থাকবে ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ। মমতা বলেন, “বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দির হবে এটি। ১৭.৪১ একর জমির উপরে করছি। মহাতীর্থে এক লক্ষ দর্শনার্থী আসতে পারবেন। মূল মন্দির ছাড়াও মহাদর্শনের জন্য বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি তৈরি করছি। মূর্তিটির মোট উচ্চতা ২১৬ ফুট। ব্রোঞ্জের মূল মূর্তিটি ১০৮ ফুটের। সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।” একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের জন্য ৬টি নতুন ভলভো বাসেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব
অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে সংবর্ধনা দেওয়া থেকে শুরু করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হওয়া—মাটিগাড়ার মঞ্চকে একাধারে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দয়া করে অত্যাচার করবেন না। বিজেপি রাজ্যগুলো কেন করছে অত্যাচার? কই আমরা তো করি না। আমরা যতদিন বাঁচবে, কাজ করে বাঁচব। ভালো কাজ করে বাঁচব।”
আরও পড়ুন:Swami Vivekananda: “আমার দেহ গেলে ওখানে সৎকার করিস” – স্বামী বিবেকানন্দ
রাজ্য জুড়ে মন্দির সংস্কারের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বাংলার সংস্কৃতি ও ধর্ম তাঁর কাছে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। মঞ্চ থেকে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মমতা মনে করিয়ে দেন, তাঁর সরকার কেবল মন্দির নয়, গির্জা থেকে ফুরফুরা শরিফ—সব ধর্মের উন্নয়নেই সমানভাবে কাজ করেছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন চললেও, মাটিগাড়ার এই শিলান্যাস (Mahakal temple) অনুষ্ঠান যে শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এক বড় পাওনা, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, এই ‘মহাকাল’ তাস বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পালে কতটা হাওয়া দেয়।


