Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য জুড়ে দীর্ঘ এক মাসের কর্মবিরতির (ASHA Workers Protest) পর মঙ্গলবার ফের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন আশা কর্মীদের একাংশ। ন্যূনতম বেতন, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি এবং বকেয়া ভাতা-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনে নামা আশা কর্মীদের অভিযানে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। অভিযানের দিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ও জিআরপি-র বিরুদ্ধে।
আশা কর্মীদের দাবি (ASHA Workers Protest)
আশা কর্মীদের দাবি, ১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম (ASHA Workers Protest) বেতন, কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে তাঁরা টানা ৩০ দিন ধরে কর্মবিরতি চালাচ্ছেন। আজ তাঁদের স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু সেই উদ্দেশ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে রওনা দেওয়া কর্মীদের পথেই বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
একাধিক আশা কর্মী আটকে রয়েছেন (ASHA Workers Protest)
শিয়ালদা স্টেশনে বুধবার সকাল থেকেই একাধিক আশা কর্মী আটকে রয়েছেন (ASHA Workers Protest) বলে জানা যায়। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও জিআরপি তাঁদের স্টেশনের বাইরে আটকে রাখে। একই ধরনের অভিযোগ উঠে নিউ জলপাইগুড়ি, কাটোয়া, মালদা টাউন, বেলদা, মেদিনীপুর, রানিগঞ্জ এবং বাঁকুড়া স্টেশন থেকেও। কোথাও ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও স্টেশনে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও বাসে করে কলকাতা আসার পথে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ-প্রায় সর্বত্রই আশা কর্মীদের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও পুলিশের সঙ্গে বচসা, কোথাও রাস্তায় বা রেললাইনে বসে প্রতিবাদ-পরিস্থিতি একাধিক জায়গায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খাতড়া, ময়না ও অন্যান্য এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধও হয়।
অভিযানে অশান্তির আশঙ্কা
অন্যদিকে, অভিযানে অশান্তির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তবেই কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা নিয়ে আশা কর্মীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট পোশাক দেখলেই তাঁদের আটক করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছতে না পারেন। এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে বিরোধী শিবির ও আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করলেই কেন রাজনৈতিক তকমা দেওয়া হচ্ছে?
আরও পড়ুন: Weather Report: দক্ষিণে নেই শীত, উত্তর কাঁপছে ঠাণ্ডায়!
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন। রাজ্যের প্রান্তিক স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল ভরসা হয়েও দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও স্বীকৃতির দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। প্রশাসনিক বাধা ও পুলিশি তৎপরতার মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন আশা কর্মীরা। এখন দেখার, সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরজা খুলে কি না, নাকি এই টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার নেয়।


