Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের জাতীয় উৎসব মানেই শুধু কুচকাওয়াজ, ট্যাংক বা যুদ্ধবিমান নয় সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিরোসজ্জাও হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Narendra Modi)। সাধারণতন্ত্র দিবস হোক বা স্বাধীনতা দিবস, বছরের পর বছর ধরে মোদির পাগড়ি যেন এক নিজস্ব ভাষা তৈরি করেছে যেখানে রং, নকশা আর বাঁধনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও রাজনৈতিক বার্তা।

ঝলমলে রাজস্থানি ছোঁয়া (Narendra Modi)
এ বছর, সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে দিল্লির কর্তব্য পথে প্রধানমন্ত্রী হাজির হয়েছিলেন এক ব্যতিক্রমী শিরোসজ্জায়। গাঢ় নীল কুর্তা, সাদা চুড়িদার আর হালকা আকাশি নেহরু জ্যাকেটের সঙ্গে তাঁর মাথায় ছিল রেশমের তৈরি এক ঝলমলে পাগড়ি। পাগড়িটির সবচেয়ে নজরকাড়া দিক ছিল তার নকশা। টাই অ্যান্ড ডাই করা বাহারি কাপড়ের উপর সোনালি জড়িতে বোনা ময়ূরের পালকের মোটিফ মেরুন, বেগুনি, গোলাপি, সবুজ, সাদা, হলুদ ও নীল রঙের সমাহার। এই ধরনের নকশা মূলত রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পেই দেখা যায়। শুধু নকশাই নয়, পাগড়ি পরার ধরনও ছিল রাজস্থানের যোধপুর ঘরানার আদলে।

সাজপোশাকের আড়ালে সাংস্কৃতিক বার্তা (Narendra Modi)
মোদির এই শিরোসজ্জা নিছক ফ্যাশনের অনুষঙ্গ নয়। বরাবরই তাঁর পোশাকে ভারতের আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার এক সচেতন প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। রাজস্থান কিংবা গুজরাতের পাগড়ি বেছে নেওয়া মানে শুধুই নিজের শিকড়ের কথা মনে করানো নয়, বরং ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরা। ময়ূরের পালকের মোটিফ আবার আলাদা তাৎপর্য বহন করে। ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি তার উপস্থিতি যেন জাতীয় উৎসবের আবহকে আরও গভীর করে তোলে।
২০১৪ থেকে আজ পর্যন্ত (Narendra Modi)
নরেন্দ্র মোদির পাগড়ি-প্রীতি নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালের স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল উজ্জ্বল লাল পাগড়িতে সোনালি বিন্দু বিন্দু নকশায় ভরপুর। সদ্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রীর সেই পাগড়িতে যেন প্রকাশ পেয়েছিল আত্মবিশ্বাস ও শৌর্যের প্রতীক। ২০১৫ সালে লালের বদলে এল এক অনির্দিষ্ট হলদে শেড না পুরো সোনালি, না পুরো গেরুয়া। আড়াআড়ি ডোরা কাটা সেই পাগড়ির মাপও ছিল তুলনামূলক ছোট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাগড়ির রং, নকশা ও আকার বদলালেও, গুরুত্ব কমেনি এক বিন্দুও।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা, নেতাজির জন্মদিনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী
গুজরাত–রাজস্থান বনাম ব্যতিক্রমী উত্তরাখণ্ড
গত চার বছর ধরে সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রীর শিরোসজ্জায় বারবার ফিরে এসেছে গুজরাত ও রাজস্থানের প্রভাব। নিজের জন্মভূমি গুজরাত কিংবা পড়শি রাজস্থানের ঐতিহ্য যেন তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ২০২২ সাল। সে বছর তিনি পরেছিলেন উত্তরাখণ্ডের টুপি যা পাহাড়ি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। সেই একমাত্র ব্যতিক্রমই প্রমাণ করে, মোদির শিরোসজ্জা পরিকল্পনাহীন নয়; বরং সময়, প্রেক্ষাপট ও বার্তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই তা বেছে নেওয়া হয়।



