Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লগ্নজিতা চক্রবর্তী, স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিকের পর এবার অনুষ্ঠানে গিয়ে হেনস্তার অভিযোগ তুললেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty)। বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা শুধুই ব্যক্তিগত অপমান নয় বরং শিল্পীসত্তা এবং মঞ্চ-সম্মানের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কী ঘটেছিল বনগাঁর মঞ্চে (Mimi Chakraborty)
রবিবার বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। তবে সেখানে পৌঁছতে তাঁর প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তুতি শেষ করে তিনি যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন দর্শকদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ছিল। বহু মানুষ তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে এবং কাছ থেকে দেখতে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, পারফরম্যান্স চলাকালীন আচমকাই কোনও পূর্ব-আলোচনা বা সতর্কতা ছাড়াই তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, মাইক্রোফোনে দেরি করে আসার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে আর অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। কার্যত জোর করেই তাঁকে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
ভক্তদের সামনেই ‘অসম্মান’ (Mimi Chakraborty)
মিমির বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বা ছবি তুলতে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি ঘটে হঠাৎ, কোনও সৌজন্য বা সম্মানজনক আলোচনার সুযোগ না দিয়েই। তাঁর মতে, মঞ্চে এভাবে একজন শিল্পীকে হেনস্তা করা শুধুমাত্র অপমানজনক নয়, বরং জনসমক্ষে মানহানির শামিল।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী
ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিমি চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “মঞ্চে অসম্মান কখনও বরদাস্ত নয়।” নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, পরিবেশনার মাঝখানে দর্শকদের সামনে তাঁকে চলে যেতে বলা হয়, যা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তবুও পরিস্থিতির মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি কোনও তর্কে না গিয়ে চুপচাপ মঞ্চ ছেড়ে চলে আসেন।
পুলিশের দ্বারস্থ মিমি, শুরু তদন্ত (Mimi Chakraborty)
ঘটনার পর বনগাঁ থানায় হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেছেন মিমি চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে মুখ খোলেনি। এদিকে, অভিযোগে উঠে আসছে তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তির নাম, যিনি নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের সঙ্গে যুক্ত এবং পেশায় জ্যোতিষী বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, তিনিই নাকি মিমিকে মঞ্চ থেকে নামতে বলেন। তবে এই তথ্য এখনও পুলিশিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
উদ্যোক্তা সংস্থার পাল্টা দাবি (Mimi Chakraborty)
অন্যদিকে, উদ্যোক্তা ক্লাবের কর্মকর্তারা রাহুল বসু ও শোভন দাস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি,
“মিমি চক্রবর্তীকে কোনও অসম্মান করা হয়নি। তিনি এক ঘণ্টা দেরি করে রাত সাড়ে এগারোটার পর মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের দেওয়া নির্ধারিত সময় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে আমরা ঠিক রাত বারোটায় অনুষ্ঠান বন্ধ করি।” তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা অসম্মানজনক মনে হতে পারে, তবে অভিনেত্রীকে সসম্মানেই বিদায় জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:Nandigram: রানিচক দখল তৃণমূলের, নন্দীগ্রামে পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্ক!
‘চুপ থাকলে এই আচরণ চলতেই থাকবে’
নিজের লিখিত বক্তব্যে মিমি চক্রবর্তী স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি শুধুই তাঁর ব্যক্তিগত অভিমান নয়। তিনি লিখেছেন,
“আজ যদি আমি চুপ থাকি, আগামীকাল এই আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে।” এই বক্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন শিল্পীদের সম্মান, নিরাপত্তা এবং আয়োজকদের দায়িত্ববোধ নিয়ে।



