Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এই মুহূর্তে বাংলা বিনোদন জগতে জীতু কমল এক পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম (Jeetu Kamal)। টেলিভিশনের ধারাবাহিক হোক বা বড় পর্দার সিনেমা দুই ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি বড় পর্দায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত তিনি। কিন্তু অভিনয়ের বাইরে তাঁর আর একটি সত্তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছিল একজন সংবেদনশীল, ভাবুক, বইপ্রেমী মানুষ। সেই সত্তারই প্রথম সাহিত্যিক আত্মপ্রকাশ ঘটল ‘কাঞ্চনটুকু’ বইটির মাধ্যমে। এটি কোনও উপন্যাস নয়, নয় কোনও গল্পগ্রন্থ বা কবিতার বই বরং জীবনের টুকরো টুকরো উপলব্ধির এক গভীর কোলাজ।

সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট (Jeetu Kamal)
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন জীতু কমল। ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একরাশ বইয়ের সামনে তোলা তিনটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “এক দিস্তা বই দিও, যাতে চিতায় কাঠের দরকার না পড়ে।” এই লাইনটি পড়ে অনেক ভক্তই আবেগে ভেঙে পড়েন। বইয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সকলের জানা থাকলেও, এমন অন্তিম ইচ্ছার প্রকাশ দর্শকদের মনে এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি করে। কমেন্ট বক্স জুড়ে ধরা পড়ে সেই অনুভূতির প্রতিচ্ছবি, কেউ লেখেন, “ক্যাপশনটা বদলাও, কষ্ট হচ্ছে।” কেউ বলেন, “বই জীবন দিক, মৃত্যুর কথা নয়।” এই আবেগই বুঝিয়ে দেয়, জীতু কমল শুধু অভিনেতা নন তিনি দর্শকের আপন মানুষ।
কোনও ঘরানার মধ্যে বন্দি নয় (Jeetu Kamal)
লেখক নিজেই ভূমিকায় জানিয়েছেন, এই বই কোনও উপন্যাস নয়, কোনও গল্প নয়, কোনও কবিতাও নয়। ‘কাঞ্চনটুকু’ আসলে আত্মোপলব্ধির কিছু খণ্ড-চিত্র। এখানে কোনও বাঁধাধরা আখ্যান নেই, নেই শুরু-মাঝ-শেষের বাধ্যবাধকতা। আছে ভাবনা, অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি যা জীবনের পথে চলতে চলতে মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। লেখক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই লেখাগুলি মূলত তাঁর কনিষ্ঠদের উদ্দেশে। কারণ জীবন কখনও সহজ নয়, আর বাধাই আমাদের সঠিক পথের নির্দেশক এই উপলব্ধিই বইয়ের মেরুদণ্ড।
টুকরো কথায় জীবনের বড় সত্য (Jeetu Kamal)
মোট ৪৪টি টুকরো লেখা রয়েছে এই বইয়ে। প্রতিটি লেখাই ছোট, কিন্তু ভাবনায় গভীর। যেমন,
৬ নম্বর লেখায় তিনি লেখেন,
“যে শিল্পী মজা করতে জানে না, সে শিল্পীই নয়। সে ব্যবসায়ী।”
৯ নম্বর লেখায় উঠে আসে আত্মসম্মান ও অবস্থানের কথা:
“সব প্রশ্নের উত্তর দিতে যাবেন না… দরকারে নিজের মাথা তুলুন।”
৩৪ নম্বর লেখায় সমাজের এক তীক্ষ্ণ বাস্তবতা:
“শারীরিক প্রতিবন্ধকতা চোখে দেখা যায়।
মানসিক প্রতিবন্ধকতা কাজে বোঝা যায়।”
আর ৪৪ নম্বর লেখায় যেন এক গভীর দার্শনিক উপলব্ধি—
“চাঁদ দূরে আছে তাই আমাদের এত প্রিয়…
কাছে এলে তার দাগ-কলঙ্ক নিয়ে সমালোচনা করি।”
এই লেখাগুলির মধ্যে কোথাও উপদেশ নেই, আছে অভিজ্ঞতার নির্যাস।

লেখকের প্রেরণা ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকার (Jeetu Kamal)
ভূমিকায় জীতু কমল অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভক্ত। তাঁদের মতো ভাবতে চান, যদিও তাঁদের মতো লেখার ধৃষ্টতা নেই এই বিনয়ই তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, একদিন গল্প বা উপন্যাসও লিখবেন। ‘কাঞ্চনটুকু’ যেন সেই ভবিষ্যৎ যাত্রার প্রথম ধাপ।
ভাবনার সঙ্গে রঙের মেলবন্ধন (Jeetu Kamal)
প্রচ্ছদ: বৃষ্টি
অলঙ্করণ: রিয়া দাস
প্রুফ সংশোধন: রাজর্ষি সরকার
নিবেদক: অনুভূতি
প্রকাশক: অমর মিশ্র কর্তৃক, অনুভূতি প্রকাশনের পক্ষে
উৎসর্গ: আর জি করের মৃতা ডাক্তারকে…
‘কাঞ্চনটুকু’ বইটির প্রচ্ছদ নির্মাণ করেছেন বৃষ্টি। প্রথম দেখাতেই নজর কাড়ে সংযত অথচ গভীর এই কভার ডিজাইন। কাঞ্চন ফুলের কোমল আভায় মোড়া প্রচ্ছদে সাদা-কালোর আবহের মধ্যে রঙের সূক্ষ্ম উপস্থিতি যেন লেখকের দ্বৈত সত্তাকে একসঙ্গে তুলে ধরে একদিকে জনপ্রিয় অভিনেতা, অন্যদিকে আত্মমগ্ন লেখক। এই রঙিন ছোঁয়া কোনও বাহুল্যের প্রকাশ নয়, বরং ভাবনার ইঙ্গিত। প্রচ্ছদের প্রতিটি রেখা ও রঙ বইয়ের অন্তর্লীন সংবেদনশীলতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে নির্মিত। অলঙ্করণে রিয়া দাসের কাজ বইয়ের নীরব গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে, আর প্রুফ সংশোধনে রাজর্ষি সরকারের যত্নশীল ছোঁয়া লেখার প্রবাহকে করেছে সাবলীল ও পরিমার্জিত।

আরও পড়ুন: Arijit Singh: লবি রাজনীতি না নতুন প্রজেক্ট? অরিজিতের বাড়িতে গোপনে আমির খান!
এক নতুন যাত্রা
অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘চোর’ ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নতুন ছবির কাজ সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ত জীতু কমল কিছুদিন আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আপাতত সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরেছেন তিনি। এই ব্যস্ততার মাঝেই ‘কাঞ্চনটুকু’ প্রমাণ করে অভিনয়ের বাইরে তাঁর মন পড়ে থাকে ভাবনায়, বইয়ে, লেখায়।



