Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখন আর শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সমস্যা নয় এটি ধীরে ধীরে ভারতের ঘরোয়া রান্নাঘরের সংকটে রূপ নিচ্ছে(Hormuz Crisis)। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে স্টক ব্রোকার সংস্থা পিএল ক্যাপিটাল জানিয়েছে, ভারতের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম বাজার কাঁচা তেলের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
গভীর সামাজিক প্রভাব (Hormuz Crisis)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৫০–৬০ শতাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে আসে। ফলে এখানে কোনও বিঘ্ন ঘটলেই সরাসরি দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ে, যা কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং গভীর সামাজিক প্রভাবও ফেলতে পারে।
বাড়তে পারে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ
বর্তমানে দেশে ৩১ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ রয়েছে, যার একটি বড় অংশ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিকে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলতে পারে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে ডিজেল, পেট্রোল, এলপিজি ও জেট ফুয়েলের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
গ্যাসের অভাবে সিঙারায় টান (Hormuz Crisis)
এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু রেস্তোরাঁয় গ্যাসের অভাবে সিঙারার মতো জনপ্রিয় খাবার মেনু থেকে বাদ দিতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে গ্যাসের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন ওভেনে রান্না শুরু করেছেন। চায়ের লিকারেও টান পড়েছে একই কারণে।
দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত (Hormuz Crisis)
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার জনমনে আতঙ্ক কমাতে উদ্যোগী হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পাশাপাশি হোটেল ও খাদ্য শিল্পকে সচল রাখতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।



