Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গা হঠাৎই কেঁপে উঠল এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে (Earthquake)। ভারতীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS))-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৬ যা যে কোনও সময় বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

কোথায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র? (Earthquake)
ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল নিয়াফু শহর থেকে প্রায় ১৫৩ কিলোমিটার দূরে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার গভীরে। এই গভীরতাই এখন বিজ্ঞানীদের ভাবনার মূল কারণ। সাধারণত গভীর ভূমিকম্পে পৃষ্ঠে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও, এর শক্তি অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বিপজ্জনক আফটারশকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও সতর্কতা জারি (Earthquake)
এখনও পর্যন্ত কোনও সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি। তবে টোঙ্গা সরকার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

ভূতাত্ত্বিক ভাবে অস্থির এক অঞ্চল (Earthquake)
টোঙ্গা অবস্থিত তথাকথিত “রিং অফ ফায়ার”-এর অংশে যা বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম। এই অঞ্চলে প্লেট টেকটোনিক্স -এর প্রভাবে একাধিক টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলেই নিয়মিত ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত হয়। সম্প্রতি সামোয়া-সহ আশপাশের এলাকাতেও একাধিক কম্পন লক্ষ্য করা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
২০২২-এর ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাজা (Earthquake)
২০২২ সালে টোঙ্গায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এখনও বিশ্ববাসীর মনে দাগ কেটে আছে। সেই সময়ের বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সেটিকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক বিস্ফোরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুনামির ঢেউ বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু দ্বীপ।

আরও পড়ুন: Meteorit Explosion: উড়ন্ত অবস্থাতেই বিস্ফোরণ, উল্কার বিস্ফোরণে তোলপাড় আকাশ!
ক্ষয়ক্ষতি কম, কিন্তু আতঙ্ক প্রবল
বর্তমান ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে উঁচু আবাসনগুলিতে বসবাসকারী মানুষজন স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভব করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর উৎসস্থলের কারণে তাৎক্ষণিক ক্ষতি কম হলেও, এই ধরনের ভূমিকম্পের পরে শক্তিশালী আফটারশক আসার সম্ভাবনা থাকে যা অনেক সময় মূল কম্পনের থেকেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।



