Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অবশেষে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ফিরছে ক্রিকেট, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হায়দরাবাদ এবং বেঙ্গালুরু (IPL 2026)।
আজকের ম্যাচে নজর কাড়বেন কে? (IPL 2026)
ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। শনিবার আইপিএল-এর উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি বিরাট কোহলি এবং ঈশান কিষাণরা। একদিকে বিরাটদের সামনে যেমন আইপিএল-এর খেতাব ধরে রাখার লড়াই তেমন হায়দরাবাদের কাছে ঈশান কিষাণের নেতৃত্বে খেতাব জয়ের লক্ষ্যে জয় দিয়ে মরশুম শুরু করার লড়াই। যেকোন যুদ্ধের আগে প্রত্যেকটা দলের শক্তি সম্পর্কে অবগত হতে হয় বিপক্ষ দলকে। কারণ তাঁরাই সেই যুদ্ধের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন (IPL 2026)।
দুই দলেই চোট সমস্যা রয়েছে। তবে প্রথম ম্যাচ যে দর্শকরা উপভোগ করতে চলেছেন সেটা বলা বাহুল্য। চোট সমস্যা থাকলেও দুই দলে কয়েকজন প্লেয়ার আছেন যাঁরা ম্যাচের অভিমুখ যেকোন সময় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। ঠিক যেমন যুদ্ধে কে প্রথমে আঘাত করল সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কে প্রথম মাটিতে পড়ল। তেমনই ক্রিকেটের ময়দানে কেউ দ্রুত রান তুলে ফেলার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কে দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারে। এই ম্যাচে সেরকমই চার ক্রিকেটার রয়েছেন যাঁরা আজকের ম্যাচে হতে পারেন এক্স ফ্যাক্টর (IPL 2026)।
বিরাট কোহলি
ভারতের হয়ে কোহলি যে বিরাট নাম সেটা সবাই জানে। এক প্রান্তে যখন বিরাট ব্যাট হাতে থাকেন তখন স্কোর বোর্ড যাই বলুক না কেন বিপক্ষ নিশ্চিন্ত হতে পারে না। কারণ জানে তখনও ক্রিজে বিশ্বের সেরা চেজ মাস্টার রয়েছেন। এমন কিছু অসামান্য ইনিংস তিনি খেলেছেন যে আধুনিক ক্রিকেটে তাঁকেই অন্যতম সেরা বলে মনে করা হয়।

বেঙ্গালুরু শিবিরেরও অন্যতম ভরসার নাম বিরাট কোহলি। ৩৭ বছরের এই ক্রিকেটার দেশের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু দলেরও স্তম্ভ। ফিল সল্টকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিংয়ে দেখা যাবে কিং কোহলিকে। গত বছর আইপিএল খেতাব এসেছে বেঙ্গালুরুর আর সেই মরসুমেই বিরাট করেছেন ১৫ ম্যাচ খেলে ৬৫৭ রান। ২০১৬ সালের আইপিএল-এ বিরাটের মোট রান ছিল ৯৭৩। এছাড়াও ২০১৩ সালে ৬৩৪ রান, ২০২৩-এ ৬৩৯ রান, ২০২৪-এ ৭৪১ রান (IPL 2026)।
সব রেকর্ড তিনি স্পর্শ করলেও এখনও তাঁর রানের এবং জয়ের খিদে একই রকম রয়েছে। মাঠে তাঁর আগ্রাসন আজও বিপক্ষের কাছে ভয়ের কারণ। যেকোন ম্যাচে খেলার প্রয়োজন মতো নিজের গিয়ার কমানো-বাড়ানোর ক্ষমতা রাখেন কোহলি। শেষ কিছু মাসের ফর্ম দেখে অনেকের মতেই এই মরশুমেও তাঁকে পাওয়া যাবে ভয়ঙ্কর ফর্মে। স্বাভাবিকভাবে সমর্থকদের পাশাপাশি বিপক্ষ দলেরও নজর থাকবে তাঁর উপর (IPL 2026)।
অভিষেক শর্মা
এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে ভারতীয় ব্যাটারকে নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা হয় তিনি হলেন অভিষেক শর্মা। এক সময় যুবরাজ সিং ছিলেন এই তারকা ব্যাটারের মেন্টর। নিজের ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের কারণেই তিনি পরিচিত। নিজের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বিপক্ষের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারেন অভিষেক।

বর্তমানে আইসিসি-র এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার। বিশ্বকাপে তাঁকে খুব ভাল ছন্দে পাওয়া যায়নি। শেষ ম্যাচে রান পেলেও নিজের চেনা ছন্দে ধরা দেননি অভিষেক। তবে SRH-এর হয়ে যেকোন সময়ে যে তিনি জ্বলে উঠতে পারেন সে কথা বিরাট কোহলিও ভাল করে জানেন। গত মরশুমে ১৩ ম্যাচ খেলে তাঁর রান ছিল ৪৩৯। এই রান তিনি করেছিলেন ১৯৩.৩৯ স্ট্রাইক রেটে। সুতরাং তাঁকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল কোনওভাবেই করবে না বেঙ্গালুরু। ব্যাটের পাশাপাশি বলও করতে পারেন অভিষেক। এই ম্যাচে তিনি দলের সহ অধিনায়কও। সব মিলিয়ে নজর থাকবে এই তরুন তারকার দিকেও।
রজত পতিদার
বিরাট কোহলির নেতৃত্বে বেঙ্গালুরু ভাল খেললেও কাঙ্খিত খেতাব জয়ের থেকে দূরেই থাকতে হয়েছিল। অবশেষে ১৭ বছরের খরা কাটে বেঙ্গালুরু দলের। দলকে গত বছর নেতৃত্ব দেন রজত পতিদের। এইবার তাঁর লক্ষ্য অধিনায়ক হিসেবে দলের হয়ে খেতাব ধরে রাখার। তবে শুধু অধিনায়ক হিসেবে না দলের মিডিল অর্ডারে অন্যতম ভরসার নাম রজত।

একদিকে যেমন ঝোড়ো ব্যাটিং করে রান তুলতে সক্ষম তিনি তেমনই দলের প্রয়োজনে খেলার হাল ধরতেও পারেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের দিকে সমর্থকদের পাশাপাশি নজর থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টেরও। তাঁর দিকে নজর থাকবে তাঁর ব্যাটে ক্যাপ্টেন্স নক আসে কিনা। অধিনায়ক এবং ব্যাটার দুই ক্ষেত্রেই নিজেকে আবারও প্রমাণ করার মঞ্চ এই মেগা টুর্নামেন্ট (IPL 2026)।
আরও পড়ুন: Noida Airport: রাজধানীতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: নয়ডা বিমানবন্দরের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন
ঈশান কিষান
‘ছোট প্যাকেট, বড় ধামাকা’, কথাটা বলাই যায় এই ব্যাটারের সম্পর্কে। একসময়ে তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। বাদ পড়েছেন বোর্ডের চুক্তি থেকে। সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসে বিশ্বজয়। পৃথিবীতে কামব্যাকের গল্প হিসেবে ঈশান কিষাণের গল্পও লেখা থাকবে, ঠিক যেমনভাবে লেখা থাকবে সৌরভের ফিরে আসার গল্প।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফর্ম করে জায়গা করে নিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে। সেখান থেকেই তাঁর নতুন করে জয় যাত্রা শুরু হয়। ব্যাট হাতে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেললেন দুরন্ত কিছু ইনিংস। ছিলেন অনবদ্য ছন্দে। নয় ইনিংসে ৩১৭ রান। আর এই রানের মাধ্যমে নিজের কামব্যাক স্মরণীয় করে রাখলেন ঈশান কিষাণ। এবার হায়দরাবাদের নেতৃত্বের ভার তাঁর কাঁধে। প্যাট কামিন্সের না থাকার কারণে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দুই ভূমিকাতে তিনি কেমন পারফর্ম করেন সেই দিকে তাকিয়ে সবাই (IPL 2026)।


