Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে বিরাট আগ্রাসন প্রকাশ করার বদলে শান্ত থাকলেন কোহলি (Virat Kohli)।
কোহলির দুরন্ত সেঞ্চুরি (Virat Kohli)
শরবত অত্যন্ত নিরীহ একটা বস্তু। কিন্তু সেই শরবতকে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল এক দৃশ্যে অদ্ভুত বিড়ম্বনা। সেই দৃশ্যে শরবতই যেন নায়ক। বিখ্যাত হোক বা কুখ্যাত, কাশির বুকে বসে মগনলাল মেঘরাজ যখন জটায়ুকে শরবত খাওয়ার কথা বলেন তখন সেই নিরীহ এই পানীয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল লালমোহন বাবুর আশঙ্কা আর তাতে শঙ্কিত দর্শককুল। তবে সেখান থেকেই পাল্টে যায় আবার সিনেমার গ্রাফ (Virat Kohli)।
এরপর জটায়ুর সামনে এক নিশ্চিত মৃত্যু ফাঁদ। এতক্ষণ যে শরবতকে তিনি ভয় করছিলেন এবার সেই শরবতে শেষবার চুমুক দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন একটা চাকতির সামনে আর সেখানে নাইফ থ্রো-র খেলা দেখান অর্জুন। সেই সময় ফেলুদা কিছু করতে না পেরে গুমরে থেকেছেন। অবশেষে বাঙালির প্রিয় ফেলুদা মৌনব্রত ভাঙলেন গঙ্গার ঘাটে। শুধু ভাঙলেন না, এক পণ করলেন এই অপমানের বদলা নেওয়ার। সেই সময় ফেলুদা বলেন, ‘আমি হয় এর বদলা নেবো, না হলে গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেব।’ এরপর খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটা ফেলুদা করে দেখান। ক্রিকেট মাঠেও বিরাট যতবার ব্যর্থ হয়েছেন ঠিক ততবার সেই সব কিছুর বদলা নিয়ে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছন। দুই ম্যাচে খাতা না খোলার বদলা বিরাট নিলেন কলকাতার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে।
চন্দ্রবিন্দুর বিখ্যাত গানের লাইন ধার করে বিরাটের জন্য বলাই যায় ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়।’ তবে একটু ঘুরিয়ে বললেও দশ হবে না ‘এভাবেই ফিরে আসতে হয়।’ দুই ম্যাচ শূন্য, ট্রোল শুরু হতে সময় লাগেনি। কিন্তু কেন তিনি চেজমাস্টার সেটাই আবার প্রমাণ করলেন রায়পুরের মাঠে। বুধবার কলকাতার বিরুদ্ধে একাই ১০৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে ম্যাচ জেতালেন। ওপেনে নেমে শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন কিং কোহলি। কিন্তু যে বিরাট আগ্রাসী উদযাপনের জন্য পরিচিত সেই বিরাট সেঞ্চুরি করেও ছিলেন শান্ত। এবার সেই বিষয়েই মুখ খুললেন বিরাট (Virat Kohli)।

পরপর দুই ম্যাচ রান না পাওয়া কোহলির কাছে ছিল বিরাট অস্বস্তির। সেটা স্বীকার করে নিলেন বিরাট। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘শেষ দুই ম্যাচ রান পাইনি। এই অনুভূতিটা আমাকে ভিতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। কারণ আমি জানি আমি ভাল খেলতে পারি। কিন্তু যখন বড় ইনিংস খেলতে পারিনি এবং দলের জন্য কার্যকরী হতে পারিনি, তখন সেটা অবশ্যই ভাবায়।’

তাই সেঞ্চুরির পর বড় কোনও উদযাপন করেননি বলেই জানান কোহলি। বরং এই ম্যাচে তাঁর লক্ষ্য ছিল দলকে জয়ের পথে নিয়ে আসা। সেই বিষয়টাই ম্যাচ শেষে স্পষ্ট করলেন তিনি (Virat Kohli)।
আরও পড়ুন: India Ship Attack: ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলা, তীব্র নিন্দা ভারতের
বিরাট বলেন, ‘সেঞ্চুরির পরে বড় কোনও সেলিব্রেশন করিনি। কারণ আমরা জানি এখন প্লে-অফে যাওয়ার জন্য পয়েন্টের গুরুত্ব কতটা। তাই অযথা বাড়তি উদযাপন করে ফোকাস নষ্ট করতে চাইনি। দলের জয়ই সবার আগে। আর মাঝে মাঝে এমন ব্যর্থতা ভালো। এটার কারণেই আবার চেনা ছন্দে ফেরার জন্য বাড়তি উদ্দীপনা পাওয়া যায়।’
বিরাট জানায় ফর্মে ফেরার জন্য তিনি বাড়তি কোনও চেষ্টা করেননি। ক্রিজে নিজের পজিশন ঠিক রেখে বলের লেংথ এবং ফিল্ডিং পজিশন দেখে শট খেলেই আবার সাফল্য পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান যতদিন খেলবেন চাপের মুখে সেরাটা দিয়ে এমনভাবেই খেলে যেতে চান (Virat Kohli)।


